• facebook
  • twitter
Thursday, 5 March, 2026

ইজরায়েল-আমেরিকার হামলার পর পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত তীব্র

পাল্টা আঘাতে উত্তপ্ত ইরান

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ক্রমশই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ইরানের উপর ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গিয়েছে। এই সংঘাত এখন ষষ্ঠ দিনে পৌঁছেছে। ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে চালানো সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইসহ একাধিক শীর্ষ নেতা নিহত হন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এর পর থেকেই গোটা অঞ্চল জুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ওই হামলার পর তেহরান দ্রুত পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। ইরানের সেনা গালফ অঞ্চলে থাকা আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি এবং বিভিন্ন স্থানে ইজরায়েলের স্বার্থের উপর আঘাত হানতে শুরু করেছে। একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও সামরিক পাল্টা আঘাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এই সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

Advertisement

এই পরিস্থিতির মধ্যেই হোয়াইট হাউসে একটি গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলা সামরিক অভিযানে আমেরিকা অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে আমরা খুব ভালো করছি। কেউ যদি ১০ এর মাপকাঠিতে এই পরিস্থিতিকে বিচার করতে বলে, তাহলে আমি বলব ১৫।’

Advertisement

ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অভিযানে আমেরিকার সামরিক শক্তি বড় সাফল্য পেয়েছে। তাঁর মতে, এই অভিযানে ইরানের সামরিক ক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আরও ভালো ফল পাব। পৃথিবীর মধ্যে আমাদের সেনাবাহিনীই সবচেয়ে শক্তিশালী। বহু বছর ধরে ইরান আমাদের জন্য বড় হুমকি হয়ে ছিল।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইরান বিশ্বজুড়ে হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত। ট্রাম্পের কথায়, ‘সাতচল্লিশ বছর ধরে তারা আমাদের মানুষকে হত্যা করেছে এবং পৃথিবীর নানা জায়গায় সহিংসতা ছড়িয়েছে। কিন্তু এই লড়াইয়ে আমরা ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছি।’

এদিকে সংঘাতের জেরে গোটা পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। একদিকে ইরানের পাল্টা হামলা, অন্যদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক তৎপরতা— সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতারা ইতিমধ্যেই সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

যদি এই সংঘাত দ্রুত থামানো না যায়, তাহলে তা গোটা পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতার উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল এখন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

Advertisement