• facebook
  • twitter
Wednesday, 4 March, 2026

রাশিয়া থেকে আরও পাঁচটি এস-৪০০ কিনছে ভারত, ছাড়পত্র প্রতিরক্ষা বোর্ডের

পরবর্তী পর্যায়ে বিষয়টি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা ক্রয় বিষয়ক পরিষদ (ডিএসি)-র অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে

রাশিয়ার কাছ থেকে আরও পাঁচ ইউনিট এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাবে প্রাথমিক অনুমোদন পেল ভারতীয় বিমানবাহিনী। আগে থেকেই অতিরিক্ত এস-৪০০ সংগ্রহের পরিকল্পনা ছিল, এবার তা বাস্তবায়নের পথে একধাপ এগোল। প্রতিরক্ষাসচিব রাজেশকুমার সিংহের নেতৃত্বাধীন বোর্ড বিমানবাহিনীর প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে বিষয়টি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা ক্রয় বিষয়ক পরিষদ (ডিএসি)-র অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। সেখানে ছাড়পত্র মিললে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা যাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটি (সিসিএস)-র কাছে।

২০১৮ সালে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী মোট পাঁচটি এস-৪০০ ইউনিট ভারতে আসার কথা ছিল। এর মধ্যে তিনটি ইতিমধ্যেই ভারতীয় সেনার হাতে পৌঁছেছে। বাকি দুটি ইউনিট চলতি বছরের মধ্যেই সরবরাহ করা হতে পারে বলে প্রতিরক্ষা মহলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চাহিদার কথা মাথায় রেখে আরও কয়েকটি ইউনিট সংযোজনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

Advertisement

সম্প্রতি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নতুন করে আলোচনায় আসে। পাক জঙ্গিঘাঁটিতে ভারতের অভিযানের পর পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা হয়েছিল বলে জানা যায়। কিন্তু ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেই হামলা সফল হতে দেয়নি। নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি ধ্বংস করা হয়। এই সাফল্যের পেছনে এস-৪০০ ব্যবস্থার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এরপর থেকেই অতিরিক্ত এস-৪০০ সংগ্রহের বিষয়ে আগ্রহ আরও বাড়ে।

Advertisement

বর্তমানে ভারতীয় বাহিনীর ব্যবহৃত এস-৪০০ ট্রায়াম্ফের সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ৪০০ কিলোমিটার। এটি শত্রুপক্ষের বিমান, ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশেই শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম। অন্যদিকে, রাশিয়ার উন্নত এস-৫০০ ব্যবস্থার পাল্লা প্রায় ৬০০ কিলোমিটার, যা আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধেও সক্ষম বলে দাবি করা হয়।

ইতিমধ্যেই রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এস-৪০০ নির্মাণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারতের এই পদক্ষেপ কৌশলগত দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

 

 

 

 

 

 

Advertisement