জাপান সফরে গিয়ে অত্যাধুনিক বুলেট ট্রেনে ঘণ্টায় ৫০১ কিলোমিটার গতিতে যাত্রার বিরল অভিজ্ঞতা লাভ করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এই অভিজ্ঞতার কথা তিনি নিজেই সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন এবং জাপানের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, জাপানের ইয়ামানাশি অঞ্চলে অত্যাধুনিক ‘এসসিএমএজি’লেভ’ ট্রেনে তিনি যাত্রা করেন। ট্রেনের ভিতরে থাকা গতি প্রদর্শন বোর্ডে ৫০১ কিলোমিটার গতির ছবি তিনি নিজেই তুলে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, আমি ঘণ্টায় ৫০১ কিলোমিটার গতিতে যাত্রা করছি। এটি জাপানের অত্যাধুনিক ভবিষ্যৎ পরিবহণ ব্যবস্থা, যা পরিচ্ছন্ন, দক্ষ এবং নিখুঁত গতিশীলতার প্রতীক।’
Advertisement
তিনি আরও বলেন, ‘এত উচ্চ গতিতেও যাত্রা ছিল অত্যন্ত মসৃণ এবং স্থিতিশীল। এটি প্রমাণ করে জাপান দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, উদ্ভাবন এবং উন্নত পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে কতটা এগিয়ে। যখন প্রযুক্তি এত দ্রুত এগোয়, তখন ভবিষ্যৎ যেন আরও কাছাকাছি মনে হয়।’
Advertisement
এই সফরের সময় মুখ্যমন্ত্রী জাপানের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এবং বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত পর্বত মাউন্ট ফুজি-র সৌন্দর্যও উপভোগ করেন। তিনি বলেন, ‘মাউন্ট ফুজি অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা এবং আধ্যাত্মিক ভারসাম্যের প্রতীক। উজ্জ্বল রোদে এই ঐতিহাসিক পর্বতকে সামনে থেকে দেখার সুযোগ পাওয়া আমার কাছে সৌভাগ্যের বিষয়।’
জাপানের ইয়ামানাশি প্রদেশে সফরকালে মুখ্যমন্ত্রী স্থানীয় পড়ুয়াদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পড়ুয়াদের শৃঙ্খলা, আন্তরিকতা এবং উৎসাহ দেখে তিনি মুগ্ধ হন এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
এছাড়া, ইয়ামানাশির গভর্নর কোতারো নাগাসাকির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও করেন যোগী আদিত্যনাথ। এই বৈঠকে উত্তরপ্রদেশ এবং ইয়ামানাশির মধ্যে শিল্প, পর্যটন এবং কারিগরি শিক্ষায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিশেষ করে সবুজ হাইড্রোজেন, পরিচ্ছন্ন শক্তি এবং প্রযুক্তি বিনিময়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তরপ্রদেশে আইআইটি কানপুর-কে সবুজ হাইড্রোজেন ক্ষেত্রে উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যা শক্তি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা বাড়াতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি জাপানের প্রায় ২০০ শিল্পপতির একটি প্রতিনিধি দল আগামী আগস্ট মাসে উত্তরপ্রদেশ সফর করতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
কূটনৈতিক এবং শিল্প মহলের মতে, এই সফর উত্তরপ্রদেশ এবং জাপানের মধ্যে শিল্প বিনিয়োগ, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন গতি দেবে।
Advertisement



