• facebook
  • twitter
Wednesday, 25 February, 2026

কমছে পুরসভার স্কুল ও পড়ুয়া সংখ্যা, শিক্ষা দপ্তরের বাজেটেও কাটছাঁট

শিক্ষা বিভাগের মেয়র পারিষদ সন্দীপন সাহা জানান, বাংলা শিক্ষা পোর্টালের জন্য এখন পড়ুয়াদের একাধিক স্কুলে নাম নথিভুক্ত থাকে না।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

১৯২৪ সালে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কলকাতা পুরসভার প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শহরে পুরসভার প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তুলেছিলেন। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো মজবুত করার লক্ষ্যেই শুরু হয়েছিল সেই উদ্যোগ। কিন্তু প্রায় ১০২ বছর পর পুরসভার স্কুলগুলির হাল নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। কোথাও শিক্ষক রয়েছেন, পড়ুয়া নেই। কোথাও আবার পড়ুয়া থাকলেও পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। পাশাপাশি শিক্ষা দপ্তরের বাজেট বরাদ্দেও সামান্য কাটছাঁট হয়েছে।

পুরসভার অধীনে প্রাথমিক (প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি) ও উচ্চ প্রাথমিক (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি) স্কুল চালু রয়েছে। এক সময়ে পুরসভার অধীনে ছিল ২৭২টি স্কুল। পরে তা কমে ২৬৩-তে দাঁড়ায়। বর্তমানে সক্রিয় স্কুলের সংখ্যা ২১৭।

Advertisement

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এর মধ্যে ৬৭টি ইংরেজি মাধ্যম, ৭০টি বাংলা মাধ্যম, ৩৮টি হিন্দি মাধ্যম, ৪১টি উর্দু মাধ্যম, একটি ওড়িয়া মাধ্যম স্কুল এবং ৬৫টি শিশু শিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। মোট পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার। শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ৬০০। এর মধ্যে ৫০০ জন স্থায়ী এবং ১০০ জন অস্থায়ী। হিন্দি মাধ্যম স্কুলে কর্মরত শিক্ষক রয়েছেন ৯৫ জন।

Advertisement

বাজেটের নিরিখে দেখা যাচ্ছে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে শিক্ষা দপ্তরের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৫৯.৩৪ কোটি টাকা। আগের অর্থবর্ষে (২০২৫-২৬) বরাদ্দ ছিল ৫৯.৭৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ সামান্য কমেছে বরাদ্দ। উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বরাদ্দকৃত টাকার মধ্যে খরচ হয়েছে ৪৪.৬৮ কোটি টাকা।

পুরসভা ২৬টি স্কুলকে আপগ্রেড করে ‘মডেল স্কুল’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই স্কুলগুলিতে স্মার্ট টিভি, কম্পিউটার, স্পিকার ও ওয়েবক্যামের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরসভা সূত্রেরই দাবি, একাধিক মডেল স্কুলে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার পর্যন্ত নেই।

যদিও পুর প্রশাসনের দাবি, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। পড়ুয়াদের নিয়মিত মিড-ডে মিল দেওয়া হয়। প্রতি বছর স্কুল ড্রেস, খাতা ও ব্যাগও বিতরণ করা হয়। পড়াশোনার অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে নিয়মিত অভিভাবক-শিক্ষক বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

শিক্ষা বিভাগের মেয়র পারিষদ সন্দীপন সাহা জানান, বাংলা শিক্ষা পোর্টালের জন্য এখন পড়ুয়াদের একাধিক স্কুলে নাম নথিভুক্ত থাকে না। তাই পড়ুয়া সংখ্যা কিছুটা কমেছে আগের থেকে। তবে রাজ্যে সামগ্রিকভাবে শিক্ষায় জোর দেওয়া হয়েছে। তাই কলকাতা পুরসভায় কিছুটা বরাদ্দ কমেছে। তবে পুরসভার স্কুলগুলিতে শিক্ষার মানোন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও সেই প্রচেষ্টা জারি থাকবে।

Advertisement