কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি নির্ধারণী দপ্তর নীতি আয়োগের মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক (সিইও) পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পেলেন অভিজ্ঞ প্রশাসনিক আধিকারিক নিধি ছিব্বর। বর্তমান সিইও বি ভি আর সুব্রহ্মণ্যমের তিন বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।
নিধি ছিব্বর বর্তমানে নীতি আয়োগের অধীন ‘উন্নয়ন পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন দপ্তর’-এর ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই পদে থেকে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অগ্রগতি, কার্যকারিতা এবং বাস্তব প্রভাবের উপর নজরদারি ও মূল্যায়নের দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁর এই অভিজ্ঞতা নতুন দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
Advertisement
প্রসঙ্গত, ১৯৯৪ সালের ব্যাচের ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবার আধিকারিক নিধি ছিব্বর ছত্তিশগড় ক্যাডারের সদস্য। তাঁর দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশনে চেয়ারম্যান ছিলেন। সেই সময় তাঁর নেতৃত্বেই শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সংস্কার এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হয়েছিল।
Advertisement
শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকেও নিধি ছিব্বর যথেষ্ট দক্ষ। তিনি ইতিহাসে স্নাতকোত্তর এবং আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। প্রশাসনিক দক্ষতা, নীতি বাস্তবায়ন এবং প্রকল্প মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারণে নতুন গতি আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিদায়ী সিইও বি ভি আর সুব্রহ্মণ্যম ১৯৮৭ সালের ব্যাচের প্রশাসনিক আধিকারিক। তাঁর কর্মজীবন তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত। তিনি মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় এবং জম্মু ও কাশ্মীরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প দপ্তরের সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে নীতি আয়োগ ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ লক্ষ্যে বিভিন্ন নীতির সংস্কার, ডিজিটাল রূপান্তর এবং রাজ্যভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় জোর দিয়েছিল।
২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত নীতি আয়োগ দেশের পরিকল্পনা কমিশনের পরিবর্তে গঠিত হয়। এর মূল লক্ষ্য কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সহযোগিতামূলক নীতি নির্ধারণ এবং নিচু স্তর থেকে উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করা। এই সংস্থা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।
Advertisement



