• facebook
  • twitter
Wednesday, 18 February, 2026

গোবিন্দভোগ-সহ তিন ধরনের চালের স্বীকৃতি রাষ্ট্রসঙ্ঘের, উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলেছে রাজ্য সরকারের আন্তর্বিভাগীয় প্রকল্প ‘মাটির সৃষ্টি’-রও

রাজ্যের মুকুটে জুড়ল আরও এক নতুন পালক। এবার চালের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলল রাজ্যের। গোবিন্দভোগ-সহ বাংলার তিন প্রজাতির সুগন্ধী চাল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে তিনি জানান, রাষ্ট্রসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) পশ্চিমবঙ্গের গোবিন্দভোগ, তুলাইপাঞ্জি ও কনকচূড় চালকে খাদ্য-সংস্কৃতির ‘হেরিটেজ’ স্বীকৃতি দিয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলেছে রাজ্য সরকারের আন্তর্বিভাগীয় প্রকল্প ‘মাটির সৃষ্টি’-রও।

মুখ্যমন্ত্রী এই সম্মান গ্রামবাংলার মানুষ ও কৃষকদের উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন। তাঁর কথায়, এটি রাজ্যের জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। এফএও-র ডিরেক্টর জেনারেলের পাঠানো শংসাপত্রও তিনি প্রকাশ্যে এনেছেন।

Advertisement

গোবিন্দভোগ চাল মূলত বর্ধমান, হুগলি, নদিয়া, বাঁকুড়া ও বীরভূম জেলায় চাষ হয় এবং তা সুগন্ধ ও স্বাদের জন্য সুপরিচিত। তুলাইপাঞ্জি প্রধানত উত্তর দিনাজপুর ও উত্তরবঙ্গের অন্যান্য এলাকায় উৎপন্ন হয়। কনকচূড়ের চাষ বেশি দেখা যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। এই তিন প্রজাতির চালই দীর্ঘদিন ধরে বাংলার খাদ্য-সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

Advertisement

অন্যদিকে, ‘মাটির সৃষ্টি’ প্রকল্পটি ২০২০ সালে চালু করে রাজ্য সরকার। পশ্চিমাঞ্চলের রুক্ষ ও অনাবাদি জমিকে চাষযোগ্য করে তোলাই এর মূল লক্ষ্য। ভূমি, সেচ ও পঞ্চায়েত দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে জমির উন্নয়ন, নতুন পুকুর খনন এবং সেচব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। এর ফলে এক-ফসলি জমিতে বহুফসলি চাষ সম্ভব হয়েছে এবং গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থানও বেড়েছে।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের স্বীকৃতিতে এই প্রকল্পকে প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক স্তরে বিশেষ মর্যাদা পেল।

Advertisement