• facebook
  • twitter
Monday, 9 February, 2026

বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক

নিয়মের ব্যতিক্রম নয়, পর্যবেক্ষণ বিচারপতির

বিধানসভার ভিতরে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে প্রবেশ আদালত অবমাননা নয়, কলকাতা হাইকোর্টে এমনটাই জানাল রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দায়ের করা মামলার শুনানিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে এই বিষয়ে রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়। বিচারপতির তরফেও এদিন নিয়মের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই মামলা দায়ের করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি ছিল, অধ্যক্ষের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করছেন। তাহলে অন্য বিধায়ক বা বিরোধী দলনেতাকে একই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না কেন? তাঁর অভিযোগ, এতে আদালতের নির্দেশের অবমাননা হচ্ছে। এই অভিযোগ নিয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থও হন।

Advertisement

সোমবার এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে রাজ্যের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ও বিধানসভার অধ্যক্ষ-দু’টিই সাংবিধানিক পদ। তাই তাঁদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আলাদাভাবে বিবেচিত হতে পারে। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী, অধ্যক্ষ, বিচারপতি এবং অ্যাডভোকেট জেনারেল–এই চারটি সাংবিধানিক পদ রয়েছে। এই সাংবিধানিক পদগুলির সঙ্গে যুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাধারণ বিধায়কদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নির্দেশের আওতায় পড়ে না। এই চারটি সাংবিধানিক পদের বাইরে কেউ নিজেকে ওই স্তরের সমতুল্য দাবি করতে পারেন না।

Advertisement

অন্যদিকে বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানান, আদালত সাধারণত বিধানসভার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করতে চায় না। তবে তিনি উল্লেখ করেন, বিধানসভার ভিতরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়মের ব্যতিক্রম হওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও নিয়মের প্রশ্নে স্বচ্ছতা বজায় রাখা প্রয়োজন বলে মত আদালতের। এছাড়া তিনি আরও জানান, বিধানসভার অধ্যক্ষের জারি করা নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি সব বিধায়কের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হওয়া দরকার বলে পর্যবেক্ষণ আদালতের।

এদিন শুনানিতে বিচারপতি জানতে চান, বিধানসভা নিজেই সুরক্ষিত জায়গা হলে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য আলাদা নিরাপত্তার প্রয়োজন কেন। জবাবে অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, এটি অধ্যক্ষের সিদ্ধান্ত এবং বিষয়টি নিয়ে আগের বিভিন্ন আদালতের নির্দেশও রয়েছে, যা আদালতের সামনে তুলে ধরা হবে। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত আপাতত মামলার পরবর্তী শুনানি ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি রাখে।

Advertisement