• facebook
  • twitter
Monday, 2 February, 2026

কমিশনকে মিথ্যাবাদী বলে কটাক্ষ মমতার, বয়কটের ঘোষণা

‘আমাদের অসম্মান করা হয়েছে। আমরা বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে এসেছি।’

সোমবার বিকেল সাড়ে চারটের সময় কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ প্রতিনিধি দল। এছাড়া এসআইআর-এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা এবং ভোটার তালিকায় মৃত ভোটাররাও ছিলেন। তবে বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যেই বৈঠক থেকে বেরিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক থেকে বেরিয়েই কমিশনকে আক্রমণ করেন মমতা।

তিনি বলেন ‘আমাদের অসম্মান করা হয়েছে। আমরা বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে এসেছি।’ দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। কমিশনের থেকে কোনও প্রত্যাশা নেই এবং বিজেপির দালাল বলেও নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এসআইআর নিয়ে আইনি লড়াই এবং রাজনীতির ময়দানে তৃণমূল আছে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন মমতা।

Advertisement

এদিন সকালে বঙ্গভবনে বাংলার বাসিন্দাদের হেনস্থা করার অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে  দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন মমতা। এরপরেই গায়ে কালো চাদর চাপিয়ে দিল্লির নির্বাচন সদনে হাজির হন মমতা ও অভিষেক সহ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল। অভিষেকের পরনে ছিল কালো সোয়েটার। তিনজন মৃত বিএলও-র পরিবার এবং এসআইআর-এর খসড়া তালিকায় মৃত দেখানো এরকম পাঁচটি পরিবারের সদস্যরাও কমিশনের দপ্তরে যান। এছাড়া এসআইআর আতঙ্কে মৃত পরিবারের পাঁচ সদস্যও যান সেখানে।

Advertisement

বৈঠক থেকে বেরিয়েই ক্ষোভ উগড়ে দেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। কমিশনের বৈঠক শেষে মমতা বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন দিল্লিতে রাজনীতি করেছি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলাম।  এতদিনে এমন অহঙ্কারি কমিশন আমি দেখিনি।’  দ্রুত এসআইআর প্রক্রিয়া করা এবং ডিইও, ইআরও, এইআরও-দের গুরুত্ব না দিয়ে কেন মাইক্রো অবজার্ভারদের নিয়োগ করা হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ত্রিপুরা থেকে অবজার্ভারদের নিয়ে আসা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মমতা। বৈঠকে সরকারের তরফে কেন পর্যাপ্ত বিএলও দেওয়া হয়নি, তা নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছিল বলে জানান মমতা। তার পাল্টা মমতা বলেন, ‘আমি এতগুলো চিঠি পাঠিয়েছি একটারও উত্তর দেয়নি। ওরা আমাদের উল্টো কথা বলছে। আমাদের বলছে বিএলও দিইনি। আমরা বিএলও দিইনি তো কারা দিয়েছে? বাইরে থেকে লোক এনে অবজার্ভার করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানে না। ওরা আদালতের কথা শোনে না। এ ভাবেই দেশ চলবে?’

বিজেপির মদতেই কমিশন পুরো এসআইআর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘সাধারণ মানুষের এরকম হয়রানি হচ্ছে। আপনার কাছে বিজেপির শক্তি আছে। আমাদের কাছে জনগণের শক্তি আছে।’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার সীমা খান্না নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘এখানে ৫৮ লক্ষের নাম বাদ দিয়ে দিয়েছে। এআই দিয়ে সীমা খান্না এই কাজ করেছেন। উনি নির্বাচন কমিশনের কেউ নন। বিজেপির আইটি সেলের।‘ এরপরই তিনি বলেন, ‘কমিশন কোনও প্রশ্ন করেননি।‘

ডিসেম্বরের শেষদিকে সীমা খান্নার নাম শোনা গিয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে। সীমার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। জানা গিয়েছিল, কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি শাখার ডিআইজি পদে রয়েছেন সীমা। এবার দিল্লিতে মমতার মুখে শোনা গেল সেই সীমা খান্নার নাম। বিজেপির নির্দেশ মতোই সীমা খান্না কাজ করছেন বলে দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

তৃণমূলের বৈঠক বয়কটের পর এবার বিবৃতি দিল নির্বাচন কমিশন। বিবৃতিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। কমিশন আরও জানায়, মমতার নেতৃত্বে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল দেখা করেছে। বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সব প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

এরপর কমিশনের তরফে জানানো হয়, আইনের শাসন বজায় থাকবে। কেউ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেয়, তাহলে আইনগত ক্ষমতা ও সংবিধান অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিবৃতিতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাল্টা সরব হয়েছে কমিশন। তৃণমূলের সদস্যরা মুখ্য কমিশনারের বিরুদ্ধে অশালীন এবং হুমকির ভাষা ব্যবহার করেছে বলে দাবি করা হয়েছে কমিশনের বিবৃতিতে।

 

 

 

Advertisement