• facebook
  • twitter
Sunday, 1 February, 2026

দেশের স্কুল-কলেজে গড়ে তোলা হবে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব

এই ল্যাবের মাধ্যমে জেন জি-কে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া এবং ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি করা সরকারের লক্ষ্য

ফাইল চিত্র

প্রথাগত চাকরি নয়, বিকল্প পথে উপার্জনের দিকে ঝুঁকছে ভারতের জেন জি। সেই বিকল্পের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় পথ হল কনটেন্ট ক্রিয়েশন—ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবের মাধ্যমে ছবি, রিল বা ভিডিও তৈরি করে রোজগার করছে তরুণ প্রজন্ম। এবারের কেন্দ্রীয় বাজেটে এই প্রজন্মকে স্বাগত জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তিনি ঘোষণা করেছেন, দেশের ১ হাজার ৫০০টি স্কুল এবং ৫০০টি কলেজে গড়ে তোলা হবে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব।

বাজেট ঘোষণার সময় নির্মলা সীতারামন জানান, এই ল্যাবে অ্যানিমেশন, ভিস্যুয়াল এফেক্টস, গেমিং, কমিক্স-সহ ডিজিটাল মাধ্যমের নানারকম প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগ কেবল কনটেন্ট ক্রিয়েশন নয়, বরং ভারতের জেন জি-র মধ্যে ডিজিটাল মাধ্যম সংক্রান্ত দক্ষতাও বৃদ্ধি করবে। তবে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য সরাসরি সরকারি অর্থ সাহায্যের কোনও ঘোষণা করা হয়নি।

Advertisement

এছাড়া বিকল্প উপার্জনের আরেকটি ক্ষেত্র হিসাবে পর্যটন খাতেও জেন জি’র জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশের ২০টি পর্যটন কেন্দ্রে ১০ হাজার ট্যুর গাইডকে সরকারি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ১২ সপ্তাহব্যাপী এই প্রশিক্ষণে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্টের সহায়তা থাকবে। পাশাপাশি হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, জম্মু-কাশ্মীর, আরাকু ভ্যালির মতো পাহাড়ি এলাকায় ট্রেকিং ও পর্যটন সহায়ক পরিকাঠামো তৈরি করা হবে। কর ছাড়ের কারণে বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজও সস্তা হতে চলেছে, যা ট্র্যাভেল ব্লগ তৈরির ক্ষেত্রে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের কাজে সহায়ক হবে।

Advertisement

বঙ্গের পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ঝিলাম গুপ্তা এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি ভালো উদ্যোগ। তবে কনট্ন্ট ক্রিয়েশন এক ধরনের স্বাধীন এবং মৌলিক কাজ। যদি তা প্রথাগত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আওতায় আসে, তাহলে স্বতন্ত্রতা এবং সৃজনশীলতায় প্রভাব পড়তে পারে। এটি  কেবল একটি দক্ষতা শিক্ষার ল্যাব হবে নাকি সরকারের ‘অস্ত্র’ হিসেবেও ব্যবহার করা হবে, সেটিও দেখার বিষয়।’

এই ল্যাবের মাধ্যমে জেন জি-কে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া এবং ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি করা সরকারের লক্ষ্য। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্বাধীনতা ও মৌলিক সৃজনশীলতার সঙ্গে শিক্ষার সংমিশ্রণ কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলবে।

Advertisement