• facebook
  • twitter
Sunday, 1 February, 2026

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য নতুন পথ খুলল কেন্দ্রীয় বাজেট

বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ও সংস্কারই বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মোকাবিলায় ভারতের প্রধান হাতিয়ার

কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬ পেশ করে বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান আরও স্পষ্টও  ভাবে তুলে ধরলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধ নীতির প্রেক্ষিতে পাল্টা শুল্ক আরোপের পথে না হেঁটে ভারত এবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরব বিশ্ব ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার কৌশল নিল। সংসদে বাজেট বক্তৃতায় নির্মলা জানান, বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ও সংস্কারই বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মোকাবিলায় ভারতের প্রধান হাতিয়ার।

অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের উপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক বসানো হয়েছে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে। মোদীর ‘সংস্কার এক্সপ্রেস’ যাত্রা শুরু করা  হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভারতের লক্ষ্য ‘বিকশিত ভারত’-এর পথে এগিয়ে যাওয়া।

Advertisement

বাজেটে আমদানি শুল্কের ক্ষেত্রে একটি নিয়ন্ত্রিত পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য আমদানি করা শুল্কযোগ্য পণ্যের উপর শুল্কহার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে সাধারণ ভোক্তাদের খরচ কমবে, অন্যদিকে ই-কমার্স ও আধুনিক খুচরো বাজারের মতো আমদানি-নির্ভর ক্ষেত্রগুলিতে নীতিগত স্থায়িত্ব আসবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।

Advertisement

মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভারতের বস্ত্র, সামুদ্রিক খাদ্য ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য রপ্তানি খাত। বিশেষ করে সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণকারী সংস্থাগুলি বড় ধাক্কা খেয়েছে। এইরকম সংস্থাগুলিকে স্বস্তি দিতে অর্থমন্ত্রী সামুদ্রিক খাদ্য রপ্তানি ব্যবহৃত কাঁচামালের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত আমদানির সীমা এক শতাংশ থেকে বাড়িয়ে আগের বছরের রপ্তানি টার্নওভারের তিন শতাংশ করার প্রস্তাব রেখেছেন।

এছাড়া চামড়া ও সিন্থেটিক জুতোর ক্ষেত্রে যে শুল্ক সুবিধা রয়েছে, তা জুতোর উপরের অংশ রপ্তানির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হবে। এর ফলে উৎপাদন খরচ কমবে এবং উপকূলবর্তী অঞ্চলে কর্মসংস্থান বজায় থাকবে বলে দাবি কেন্দ্রের।

প্রতিরক্ষা খাতে রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বিমানের যন্ত্রাংশ তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামালের উপর মৌলিক আমদানি শুল্ক তুলে দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ও শক্তি সংরক্ষণ ক্ষেত্রে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেম, সৌর কাচ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশে বড় শুল্ক ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি শক্তি নীতির অংশ হিসেবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রয়োজনীয় আমদানির উপর শুল্ক ছাড় ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ওড়িশা, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুতে বিরল খনিজ করিডর গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। সব মিলিয়ে পাল্টা শুল্কযুদ্ধে না গিয়ে বিশ্ব বাজারে ভারতের প্রতিযোগিতা বাড়ানোই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য।

Advertisement