ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলে মাওবাদী দমন অভিযানে বড় সাফল্য। সুকমা জেলায় শুক্রবার চার জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করল নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে। এই চার জনের মধ্যে দু’জন মহিলা। তাদের মাথার দাম ছিল ৮ লক্ষ টাকা। রাজ্য সরকারের ‘পূনা মার্গেম’ উদ্যোগের আওতায় তারা অস্ত্র নামিয়ে সমাজের মূলস্রোতে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা নিষিদ্ধ সিপিআই (মাওবাদী) সংগঠনের দক্ষিণ বস্তার ডিভিশনের কিস্তারাম এরিয়া কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিল। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছে সোধি যোগা—এরিয়া কমিটির সদস্য, যার মাথার উপর ছিল ৫ লক্ষ টাকার পুরস্কার। পাশাপাশি দবর গঙ্গা (ওরফে মাদকাম গঙ্গা), সোধি রাজে এবং মাডভি বুধারি—এই তিন জনের প্রত্যেকের মাথায় ছিল ১ লক্ষ টাকা করে পুরস্কার।
Advertisement
আত্মসমর্পণের সময় তারা নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দেয় একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র—একটি ইনসাস রাইফেল, একটি সেল্ফ লোডিং রাইফেল, একটি ৩০৩ রাইফেল, একটি ৩১৫ রাইফেল এবং বিপুল পরিমাণ গুলি।
Advertisement
মাওবাদীদের দাবি, ছত্তিশগড় সরকারের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতিই তাদের মূলস্রোতে ফেরার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রেরণা দিয়েছে। সুকমা জেলা পুলিশ এবং অন্ধ্রপ্রদেশের আলুরি সীতারাম রাজু জেলার পুলিশের যৌথ উদ্যোগে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
নিরাপত্তা আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিস্তারাম ও গোলাপল্লি এলাকায় নতুন নিরাপত্তা শিবির গড়ে ওঠা, দুর্গম জঙ্গলে রাস্তা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন, লাগাতার মাওবাদী-বিরোধী অভিযান—এই সব মিলিয়ে সংগঠনের উপর চাপ বেড়েছে ব্যাপকভাবে। এর ফলে চাঁদাবাজি, নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং রসদ জোগানের কাজ কার্যত ভেঙে পড়েছে।
সুকমার পুলিশ সুপার কিরণ চাভান এখনও জঙ্গলে থাকা মাওবাদীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে বলেন, ‘হিংসার পথ ছেড়ে সমাজের মূলস্রোতে ফিরলে সরকার পূর্ণ নিরাপত্তা, সম্মানজনক জীবনযাপন ও আর্থিক সহায়তা দেবে’। সরকার নির্ধারিত সমস্ত পুনর্বাসন সুবিধা দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
চলতি বছরে এই আত্মসমর্পণ নতুন কোনও ঘটনা নয়। ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত ছত্তিশগড়ে ২০০-র বেশি মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে। জানুয়ারির মাঝামাঝি বিজাপুরে একদিনে ৫২ জনের আত্মসমর্পণ নজির তৈরি করেছিল। ২০২৫ সালে গোটা রাজ্যে ১,৫০০-র বেশি মাওবাদী মূলস্রোতে ফিরেছে।
কেন্দ্রীয় সরকার আগেই জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে দেশ থেকে বাম চরমপন্থা সম্পূর্ণ নির্মূল করাই লক্ষ্য। বস্তার অঞ্চলে এলাকা দখল অভিযান, গোয়েন্দা-ভিত্তিক পদক্ষেপ এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে সেই লক্ষ্যেই দ্রুত এগোচ্ছে প্রশাসন। সাম্প্রতিক আত্মসমর্পণগুলি প্রমাণ করছে, মাওবাদীদের মনোবল দুর্বল হচ্ছে এবং জঙ্গলঘেরা এলাকায় রাষ্ট্রের উপস্থিতি ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে।
Advertisement



