• facebook
  • twitter
Thursday, 29 January, 2026

দমকলের দেরিতেই আনন্দপুরে মৃত্যুমিছিল, অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শীর

তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বোস ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন প্রায় ৩২ ঘণ্টা পরে, যা প্রশাসনিক গাফিলতিরই প্রমাণ।

কলকাতার দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের আনন্দপুরে দুটি গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১-এ। এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী এবং দমকল বিভাগে ফোন করা ব্যক্তি বিরেন্দ্র যাদবের অভিযোগ, সময়মতো ব্যবস্থা নিলে এত বড় বিপর্যয় এড়ানো যেত। এলাকা-সংক্রান্ত প্রশাসনিক জটিলতা ও দেরিতে দমকল পৌঁছনোর কারণেই আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে তাঁর দাবি।

বিরেন্দ্র যাদবের গবাদিপশুর খামারটি ছিল পুষ্পাঞ্জলি ডেকোরেটরসের গুদামের ঠিক পাশেই—সেখান থেকেই প্রথম আগুন ছড়িয়ে পড়ে সংলগ্ন ‘ওয়াও মোমো’-র গুদামে। যাদব জানান, সোমবার ভোর প্রায় আড়াইটে নাগাদ তিনি নিজের রান্নাঘরের জানালা দিয়ে আগুন দেখতে পান। প্রথমে তিনি ১০১ নম্বরে ফোন করলে কলটি জেলা কন্ট্রোল রুমে যায়। সেখানে থেকে তাঁকে কলকাতা দমকলের কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করতে বলা হয়। এই বিভ্রান্তিতেই মূল্যবান সময় নষ্ট হয়।

Advertisement

পরবর্তীতে তিনি পরিচিত একজনকে দিয়ে কলকাতা দমকল কন্ট্রোল রুমে ফোন করান। কিন্তু দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয় প্রায় আধ ঘণ্টা পরে। এর মধ্যেই আগুন ভয়াবহ আকার নেয়। যাদব জানান, প্রথমে তিনি নিজেই মোটর পাম্প দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হয়ে নিজের গরু ও মহিষগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে তিনি এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন।

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বোস ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন প্রায় ৩২ ঘণ্টা পরে, যা প্রশাসনিক গাফিলতিরই প্রমাণ।

এই অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ২৮ জন নিখোঁজ। উদ্ধারকাজ চলছে। পুলিশ পুষ্পাঞ্জলি ডেকোরেটরসের মালিক গঙ্গাধর দাসকে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। পাশের ‘ওয়াও মোমো’ গুদামের মালিকদের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ দায়ের হলেও এখনও কোনও গ্রেপ্তার হয়নি। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের তিনজন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে এই ঘটনায়।

Advertisement