পার্থ প্রতীম চট্টোপাধ্যায়
বর্তমানে চরম অস্থির সমগ্র বিশ্ব। যুদ্ধের আবহাওয়া গ্রাস করেছে সারা বিশ্বকে। আমেরিকার দাদাগিরিতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে তার পার্শ্ববর্তী দেশ-সহ অধিকাংশ দেশগুলিতে যুদ্ধের আবহাওয়া। আমেরিকা তার অর্থনীতি এবং নিরাপত্তাকে মজবুত করতে ছাড় দেয়নি গ্রিনল্যান্ডকে, যা দাভোসে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের স্পষ্ট জানিয়েছেন। নোবেল শান্তি পুরস্কারের আশা ছেড়ে এখন তোপ দেগেছেন নরওয়ের মত দেশের উপরেও। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে আমেরিকার বিরোধ এই আবহাওয়াকে আরও উত্তপ্ত করেছে। ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এই যুদ্ধের বাতাবরণকে আরও উত্তপ্ত করেছে। যদিও ইরানের প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি কিছুটা পিছু হটেছেন, তবু এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। সম্প্রতি আমেরিকা তার দেশের প্রতিরক্ষা বাজেটকে প্রায় ৬৬ শতাংশ বাড়িয়েছে। এর ফলে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বিশ্বের অন্যান্য দেশের রাষ্ট্র নেতাদের কপালে। অন্যান্য দেশ যেমন চিন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং জাপান-সহ বেশ কিছু দেশে প্রতিরক্ষার বাজেট একধাপে অনেকটা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০২৬ সালের
১ ফেব্রুয়ারি হতে চলেছে কেন্দ্রীয় রেল এবং অর্থনৈতিক বাজেট।
Advertisement
আশা করা যায়, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এবং অপারেশন সিন্দুরের সাফল্যের ফলে অর্থমন্ত্রী অবশ্যই এই সেক্টরের দিকে বিশেষভাবে নজর দেবেন এবং বাজেটে এই সেক্টরের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ বাড়াবেন। পরে বেশ কিছু দেশ ভারতের প্রতিরক্ষার সরঞ্জামের ব্যাপারে যথেষ্ট পরিমাণ উৎসাহ দেখিয়েছে। আশা করা যায় ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এবং অপারেশন সিন্দুরের সাফল্যের ফলে অর্থমন্ত্রী অবশ্যই এই সেক্টরের দিকে বিশেষভাবে নজর দেবেন এবং বাজেটে এই সেক্টরের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ বাড়াবেন। সম্প্রতি তথ্য অনুযায়ী প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানিতে ভারতের স্থান অনেকটাই উপরে উঠে এসেছে।
Advertisement
বিনিয়োগকারী হিসেবে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করার জন্য আপনি ইটিএফ বা এক্সচেঞ্জে ট্রেডেড ফান্ডকে বেছে নিতে পারেন। বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানির ETF বাজারে রয়েছে। আপনি সেই সব এক্সচেঞ্জে ট্রেডেড ফান্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন। তাছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন মিউচুয়াল ফান্ড কোম্পানির ফান্ড অফ ফান্ড। এখানে আপনি একজন সাধারণ বিনিয়োগকারীর মতো বিনিয়োগ করতে পারেন। অনেক মিউচুয়াল ফান্ড কোম্পানি কেবল এসআইপি (সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান)- এর মাধ্যমে টাকা নেয় আবার কোনও কোনও মিউচুয়াল ফান্ড কোম্পানি এককালীনও টাকা নিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে বিনিয়োগের মাধ্যম হল এসআইপি (সিস্টেমেটিক ইনভেসমেন্ট প্ল্যান) কিংবা এসটিপি (সিস্টেমেটিক ট্রান্সফার প্ল্যান)। তাছাড়া যাঁরা ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত এবং ঝুঁকিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সক্ষম, তাঁরা এই সেক্টরের বিভিন্ন শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারেন। তবে এ ব্যাপারে বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়ে বিনিয়োগ করাটাই শ্রেয়।
বাজার বন্ধের ভিত্তিতে গত শুক্রবার Nifty বন্ধ হয়েছে ২৫ হাজারের আশেপাশে, যা বাজারের টেকনিক্যাল অনুযায়ী খুব একটা ভালো নয়, ফলে বিনিয়োগকারীরা শঙ্কিত। ডলারের দাম ছুঁয়েছে নতুন উচ্চতাকে, বর্তমানে প্রায় ৯২ টাকার কাছাকাছি। ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য বেশ অস্বস্তিতে আমদানিকারীরা। মিড ক্যাপ এবং স্মল ক্যাপের পতন হয়েছে চোখে পড়ার মত। বাজারের সেক্টর বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় FMCG, এবং মেটাল সেক্টরের শেয়ারগুলি বেশ ভালো জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। আবার রিয়েলিটি, মিডিয়া, এনার্জি এবং ইনফ্রা সেক্টরের শেয়ারগুলিতে বিক্রি এসেছে বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে বাজারের ২৫ হাজার থেকে ২৪ হাজার ৮০০-র কাছাকাছি জায়গায় রয়েছে ভালো সাপোর্ট। আবার উপরের দিকে ২৫ হাজার ৪০০ ওপর চলতে পারলে বাজার ভালো হবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বাড়াবে বাজেট। ফলে তেজি হতে পারে ডিফেন্স সেক্টর। আগামী দিনে এই সেক্টর দিতে পারে আপনার পোর্টফোলিওকে নিরাপত্তার আচ্ছাদন।
Advertisement



