• facebook
  • twitter
Wednesday, 21 January, 2026

কার ইন্সুরেন্স প্রিমিয়াম কমানোর সহজ উপায় ও NCB টিপস

বেশিরভাগ গাড়ির মালিকই গাড়ির ইন্স্যুরেন্স রিনিউয়ালকে শুধু একটি নিয়ম মেনে চলার কাজ বলে মনে করেন। মনে হয়, তারিখ এলে আগের কোম্পানিতেই আবার রিনিউ করে দিলেই হলো। কিন্তু বাস্তবে এই রিনিউয়াল সময়টাই এমন একটি সুযোগ, যখন একটু সচেতন হলে ভালো অঙ্কের টাকা বাঁচানো সম্ভব। প্রতি বছর গাড়ির বয়স বাড়ে, অনেক ক্ষেত্রে একটিও ক্লেম করা হয় না,

বেশিরভাগ গাড়ির মালিকই গাড়ির ইন্স্যুরেন্স রিনিউয়ালকে শুধু একটি নিয়ম মেনে চলার কাজ বলে মনে করেন। মনে হয়, তারিখ এলে আগের কোম্পানিতেই আবার রিনিউ করে দিলেই হলো। কিন্তু বাস্তবে এই রিনিউয়াল সময়টাই এমন একটি সুযোগ, যখন একটু সচেতন হলে ভালো অঙ্কের টাকা বাঁচানো সম্ভব।

প্রতি বছর গাড়ির বয়স বাড়ে, অনেক ক্ষেত্রে একটিও ক্লেম করা হয় না, তবুও প্রিমিয়াম একই থাকে বা বেড়ে যায়। এর প্রধান কারণ হলো আমরা তুলনা করি না, প্রশ্ন করি না। এই ব্লগে রিনিউয়ালের সময় কীভাবে অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানো যায় এবং নিজের সুবিধাটা কিভাবে আদায় করা যায়, সেটাই সহজভাবে বোঝানো হয়েছে।

Advertisement

কেন অনলাইনে গাড়ির ইন্স্যুরেন্স নিলে লাভ হয়?

এক সময় গাড়ির ইন্স্যুরেন্স মানেই ছিল কোনো এজেন্টের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা। পলিসি নেওয়া হোক বা রিনিউয়াল, সবকিছুই হতো এজেন্টের মাধ্যমে। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন অনলাইন সুবিধার কারণে ইন্স্যুরেন্স নেওয়ার পদ্ধতিও অনেক সহজ ও স্বচ্ছ হয়ে গেছে।

Advertisement

এজেন্ট-এর মাধ্যমে ইন্স্যুরেন্স নিলে সমস্যা কী?

এজেন্টের মাধ্যমে ইন্স্যুরেন্স নিলে কিছু অসুবিধা দেখা যায় যেমন:

  • পলিসির সঙ্গে এজেন্ট কমিশন যোগ হয়, যা অনেক সময় ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
  • সব ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির অফার দেখানো হয় না, ফলে তুলনা করার সুযোগ কমে যায়।
  • রিনিউয়ালের সময় কোন কভারেজের জন্য কত টাকা দিচ্ছেন, সেটা স্পষ্টভাবে জানা যায় না।

এই বাড়তি খরচ আর স্বচ্ছতার অভাবই শেষ পর্যন্ত আপনার প্রিমিয়াম বাড়িয়ে দেয়।

অনলাইন কার  ইন্সুরেন্স  নিলে কী সুবিধা?

অনলাইনে কার ইন্সুরেন্স নিলে এই সমস্যাগুলো সহজেই এড়ানো যায়—

  • কোনো middleman নেই, তাই আলাদা করে কমিশন দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
  • একসঙ্গে একাধিক ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির প্রিমিয়াম ও কভারেজ তুলনা করা যায়।
  • নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত কভার বা অ্যাড-অন নেওয়া বা বাদ দেওয়া যায়।
  • সঙ্গে সঙ্গেই পলিসি ইস্যু হয়, সময় নষ্ট হয় না।

অনলাইনে গাড়ির ইন্স্যুরেন্স নেওয়া মানে শুধু সহজ প্রক্রিয়া নয়, এটা সরাসরি কম প্রিমিয়ামে ভালো কভার পাওয়ার একটি বুদ্ধিমান উপায়।

কীভাবে গাড়ির ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম কমাবেন?

গাড়ির ইন্স্যুরেন্স রিনিউয়ালের সময় বেশিরভাগ মানুষ একটা সাধারণ ভুল করে, কোনো কিছু না ভেবে আগের কোম্পানিতেই অটো রিনিউ করে নেয়। কিন্তু একটু সচেতন হলে, এই জায়গাটাতেই আপনি সহজে অনেক টাকা বাঁচাতে পারেন। নিচে কয়েকটি কার্যকর কৌশল দেওয়া হলো, যেগুলো করলে প্রিমিয়াম কমানো অনেক সহজ হবে।

●      সবসময় অন্য কোম্পানির সাথে তুলনা করা 

রিনিউয়ালের মেসেজ বা ইমেল এলেই “Renew Now” বাটনে ক্লিক করবেন না। প্রথমে সময় নিয়ে অন্তত ৩–৪টি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির প্রিমিয়াম তুলনা করুন। তুলনা করার সময় খেয়াল রাখুন—

  • কভারেজ যেন একই থাকে
  • গাড়ির মূল্য বা আইডিভি (IDV) সমান রাখা হয়
  • অতিরিক্ত কভার বা অ্যাড-অন আলাদা করে দেখা হয়

এই তুলনাই আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি। কারণ, তুলনা না করলে আপনি কখনই জানবেন না কোথায় কম খরচে ভালো কভার পাওয়া যাচ্ছে।

●      অন্য কোম্পানির কোট দেখিয়ে দর কষাকষি করুন

অন্য ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কোট দেখিয়ে দর কষাকষি করাও প্রিমিয়াম কমানোর একটি কার্যকর উপায়। বেশিরভাগ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি তাদের পুরনো গ্রাহক ধরে রাখতে চায়। তাই আপনি যদি প্রমাণ দেখাতে পারেন যে অন্য কোনো কোম্পানি একই কভারেজ কম টাকায় দিচ্ছে, তাহলে বর্তমান কোম্পানি অনেক সময় অতিরিক্ত ছাড় বা কম প্রিমিয়ামে রিনিউয়ের প্রস্তাব দেয়। অনলাইনে রিনিউ করার সময় এই ধরনের ছাড় অনেক ক্ষেত্রেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হয়ে যায়। এজন্য একাধিক কোট দেখা সবসময়ই আপনার জন্য লাভজনক।

●      গাড়ির সঠিক মূল্য (IDV) ঠিক করুন

IDV বা Insured Declared Value বলতে আপনার গাড়ির বর্তমান বাজারদরকে বোঝায়। এই মূল্য ঠিক না হলে প্রিমিয়ামে সরাসরি প্রভাব পড়ে। IDV বেশি রাখলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রিমিয়াম বেড়ে যায়, আবার খুব কম রাখলে দুর্ঘটনার সময় ক্লেমের টাকা কম পাওয়া যেতে পারে। তাই গাড়ির বয়স, মডেল ও বাজারমূল্য দেখে বাস্তবসম্মত IDV বেছে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত।

●      Voluntary Deductible বেছে নিন (যদি সাবধানে গাড়ি চালান)

আপনি যদি নিয়মিত সাবধানে গাড়ি চালান এবং ছোটখাটো স্ক্র্যাচ বা ক্ষতির জন্য ইন্স্যুরেন্স ক্লেম করার অভ্যাস না থাকে, তাহলে Voluntary Deductible নেওয়া আপনার জন্য ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে। এর অর্থ হলো, ছোট ক্ষতির খরচ আপনি নিজে বহন করবেন, আর বড় দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি সাহায্য করবে। যেহেতু কোম্পানির ঝুঁকি কমে যায়, তাই তারা প্রিমিয়ামের পরিমাণও কমিয়ে দেয়। দীর্ঘ সময়ের হিসাবে এতে ভালো পরিমাণ টাকা সাশ্রয় করা যায়।

নো ক্লেইম বোনাস কি?

গাড়ির বীমার ক্ষেত্রে এনসিবি (নো ক্লেইম বোনাস) হলো এমন একটি সুবিধা, যা ভালো ও নিরাপদভাবে গাড়ি চালানোর জন্য আপনাকে দেওয়া হয়। আপনি যদি এক বছর ধরে গাড়ি চালিয়ে একবারও বীমার টাকা দাবি না করেন, তাহলে পরের বছর বীমা রিনিউ এর সময় প্রিমিয়ামের ওপর বিশেষ ছাড় পান। এই ছাড়ই হলো এনসিবি। যত বেশি বছর দুর্ঘটনা বা ক্ষতির জন্য বীমা দাবি করবেন না, তত বেশি টাকা ছাড় পাবেন।

এনসিবি কিভাবে কাজ করে?

  • এক বছর কোনো দাবি না করলে পরের বছরে ছাড় পাওয়া যায়
  • এই ছাড় ধীরে ধীরে বাড়ে
  • সাধারণত ছাড়ের পরিমাণ ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে

এনসিবির ছাড়ের ধাপ

  • প্রথম বছর দাবি না করলে ২০ শতাংশ ছাড়
  • দ্বিতীয় বছর ২৫ শতাংশ ছাড়
  • তৃতীয় বছর ৩৫ শতাংশ ছাড়
  • চতুর্থ বছর ৪৫ শতাংশ ছাড়
  • পঞ্চম বছর বা তার বেশি ৫০ শতাংশ ছাড়

NCB in Car Insurance বজায় রাখা মানে ভবিষ্যতে গাড়ির বীমার প্রিমিয়ামে বড় ছাড় নিশ্চিত করা। কিন্তু একটু অসতর্ক হলেই এই সুবিধা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই কিছু বিষয় মাথায় রাখা খুবই জরুরি।

অপ্রয়োজনীয় খরচ চিহ্নিত করে কীভাবে প্রিমিয়াম কমাবেন

গাড়ি বিমার ক্ষেত্রে অনেক সময় আমরা বুঝে উঠতে পারি না যে কত টাকা অপ্রয়োজনীয় খরচে চলে যাচ্ছে। এই লুকানো খরচগুলো মূলত add-on বা অতিরিক্ত সুবিধার কারণে হয়, যা সবসময় প্রয়োজন হয় না। তাই বুদ্ধিমানের মতো পলিসি বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

●      অপ্রয়োজনীয় অ্যাড-অন এড়িয়ে চলা

অনেক সময় বিমা কোম্পানি engine protection, zero depreciation, বা key replacement-এর মতো অতিরিক্ত সুবিধা দেয়। কিন্তু আপনার গাড়ি পুরোনো বা flood-prone এলাকায় না থাকলে এসব অ্যাড-অন সত্যিই প্রয়োজন হয় না। এই অ্যাড-অনগুলো আপনার প্রিমিয়াম বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রতিটি অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়ার আগে নিজের প্রয়োজন যাচাই করুন।

●      পেশাদার সদস্য ছাড় ব্যবহার করা

অনেক বিমা কোম্পানি ডাক্তার, প্রকৌশলী, সরকারি কর্মকর্তা বা অন্যান্য পেশাদারদের জন্য বিশেষ ছাড় দেয়। কিন্তু এই ছাড় স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রয়োগ হয় না। আপনাকে নিজের তথ্য প্রদান করে এবং পলিসিতে সঠিকভাবে নির্বাচন করে এই ছাড় নিতে হবে।

●      সতর্কতার সাথে লুকানো খরচ কমানো:

বিমার সময় সমস্ত নিয়ম ও শর্ত ভালোভাবে পড়ে নিন, অতিরিক্ত সুবিধা সত্যিই প্রয়োজন কিনা যাচাই করুন এবং প্রযোজ্য ছাড়গুলো কাজে লাগান। এইভাবে আপনি সহজেই প্রিমিয়াম কমাতে পারবেন এবং শুধু প্রয়োজনীয় সুবিধার জন্যই টাকা দেবেন।

উপসংহার

কম খরচের কার ইন্স্যুরেন্স রিনিউ করতে হলে কিছু বিষয় মেনে চলা খুব জরুরি। প্রথমেই রিনিউয়াল তারিখকে সুযোগ হিসেবে দেখুন এবং একাধিক কোম্পানির কোটেশন ভালো করে তুলনা করুন। অন্য কোম্পানির প্রাইস দেখে দরদাম করুন এবং নিজের নো ক্লেইম বোনাস (NCB) কখনও হারাতে দেবেন না। অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত কভার বা সুবিধা বাদ দিন এবং প্রযোজ্য সব ধরনের ছাড় বা ছাড়ের সুযোগ খুঁজে বের করুন। একটু সময় নিয়ে এই সব করলেই প্রতি বছর টাকা বাঁচানো সম্ভব এবং একই সুরক্ষার নিশ্চয়তা বজায় থাকে, ভবিষ্যতের দাবিতেও ঝামেলা কম হয়।

Advertisement