• facebook
  • twitter
Saturday, 17 January, 2026

নিপার আতঙ্কেও অটুট মানুষ–প্রাণী সহাবস্থান

বাদুড়দের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে নারাজ বাঁকুড়ার মাজডিহা

রাজ্যে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘিরে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।স্বাস্থ্য দপ্তর একের পর এক সতর্কতামূলক নির্দেশিকা জারি করেছে। বাদুড়কে নিপা ভাইরাসের বাহক হিসেবে চিহ্নিত করায় বহু জায়গায় বাদুড় নিয়ে ভীতি ছড়িয়েছে। কোথাও কোথাও খেজুর রস খাওয়াও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে এই আতঙ্ক বাঁকুড়ার ওন্দা ব্লকের মাজডিহা গ্রামকে স্পর্শ করতে পারেনি।

মাজডিহা গ্রামকে কার্যত ‘বাদুড়ের গ্রাম’ বললেও অত্যুক্তি হবে না।গ্রামের প্রায় প্রতিটি বড় গাছে হাজার হাজার বাদুড়ের বসবাস। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষ ও বাদুড় এখানে পাশাপাশি সহাবস্থান করে আসছে। স্থানীয়দের কাছে বাদুড় কোনও ভয়ংকর প্রাণী নয়, বরং তারা গ্রামেরই বাসিন্দা।

Advertisement

নিপা ভাইরাস সম্পর্কে গ্রামের মানুষজন যে অজ্ঞ, তা নয়।সংবাদমাধ্যম ও প্রশাসনের মাধ্যমে সংক্রমণের খবর তাঁদের কাছেও পৌঁছেছে। তবুও শুধুমাত্র আতঙ্কের কারণে শতাব্দীপ্রাচীন এই  সহাবস্থান ভেঙে দিতে রাজি নন তাঁরা। গ্রামের বাসিন্দা সোমা ঘোষের কথায়, বছরের পর বছর একসঙ্গে থাকার পরও কখনও কোনও সমস্যা হয়নি। বাদুড় যেমন গ্রামের ক্ষতি করেনি, তেমনই মানুষও তাদের ক্ষতি করতে চায় না।

Advertisement

মাজডিহাবাসীরা দীর্ঘদিন ধরেই বাদুড়দের রক্ষা করে আসছেন চোরাশিকারীদের হাত থেকে বাদুড় বাঁচানো থেকে শুরু করে পাশের গ্রামের কেউ বাদুড়দের বিরক্ত করলে প্রতিবাদ করা সবই করেন তাঁরা। তাই এই গ্রাম বাদুড়দের কাছে নিরাপদ আশ্রয়স্থল।তবে আবেগের পাশাপাশি সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার কথাও মানছেন গ্রামবাসীরা।বাদুড়ের দেহরস থেকে দূরে থাকার বিষয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলছেন তাঁরা।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য দপ্তরও বিশেষ নজর রাখছে এই গ্রামের উপর। বাঁকুড়া জেলার উপ-মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সজল বিশ্বাস জানিয়েছেন, বাদুড়ের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি।   সব মিলিয়ে, আতঙ্ক নয় সচেতনতা আর সহাবস্থান নিয়েই মাজডিহাবাসীর পথচলা। নিপার ভয় থাকলেও এই গ্রামের বাসিন্দাদের মন থেকে বাদুড়দের তাড়ানোর ভাবনা এখনও বহু দূরে।

Advertisement