এতদিন শুধুমাত্র ‘১০০’ তে ডায়াল করলেই মিলত পুলিশের সাহায্য। এবার থেকে আরও একটি নম্বরে ডায়াল করলে মিলবে পুলিশি সহায়তা। ‘১১২-তে ডায়াল’ করলে পাওয়া যাবে সেই একই সাহায্য। রাজ্য খুব তাড়াতাড়ি এই নতুন হেল্পলাইন চালু করতে চলেছে বলে জানিয়েছে নবান্ন। এই নম্বরে ফোন করলে মিলবে একাধিক সহায়তা। পুলিশ ছাড়াও পাওয়া যাবে দমকল, স্বাস্থ্যদপ্তর থেকে সমস্ত জরুরি পরিষেবার সাহায্য। পুলিশ এবং জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত ইউনিট খুব দ্রুততার সঙ্গে মিলবে বলে খবর।
শুধু পুলিশ নয়, এই নম্বরে ফোন গেলেই প্রয়োজনমতো মিলবে দমকল, স্বাস্থ্যদপ্তর থেকে শুরু করে সমস্ত জরুরি পরিষেবার সহায়তা। দুর্ঘটনা বা বিপর্যয় মোকাবিলায় সুশৃঙ্খল ও কম সময়ের মধ্যে করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে অনেক প্রাণ বাঁচবে বলেও আশা প্রশাসনের। রাজ্যে পুলিশ, দমকল বা অন্যান্য জরুরি পরিষেবার আলাদা আলাদা হেল্পলাইন রয়েছে। অনেক সময় সাধারণ মানুষ কোন নম্বরে ফোন করবেন বুঝে উঠতে পারেন না। গুলিয়ে ফেলেন। বেশিরভাগ মানুষই ‘১০০’-তে ডায়াল করে ফেলেন। পুলিশ সংক্রান্ত বিষয় না হলে সময় বেশি লেগে যায় এবং পুলিশকেই সংশ্লিষ্ট জরুরি বিভাগে ফোন করতে হয়।
Advertisement
‘রেসপন্স টাইম’ কমানো, মহিলা ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং সহজে মনে রাখার জন্য একটি নতুন নম্বর চালু করার সিদ্ধাম্ত নেয় কেন্দ্রীয় সরকার। সেই মতো চালু হয় ‘ডায়াল ১১২’। প্রতিটি রাজ্যকেই এই নম্বর চালু করার নির্দেশ দেয় দিল্লি। তবে পরিকাঠামো না থাকায় বাংলায় এতদিন চালু করা সম্ভব হয়নি। পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য কেন্দ্র প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না করায় গোটা প্রক্রিয়াটি থমকে যায়। সে কারণে ‘নির্ভয়া তহবিল’-এর টাকায় প্রকল্পটি শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে নবান্ন। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দরকার একটি কন্ট্রোল রুম। যেখানে ১১২’-র কলগুলি আসবে। সেখান থেকেই সাহায্যের কলগুলি পৌঁছে যাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগে। গোটা প্রক্রিয়াটি হবে জিপিএস ভিত্তিক।
Advertisement
‘১১২’-তে যিনি কল করবেন তাঁর মোবাইল কার নামে নথিভুক্ত করা আছে তা থেকে শুরু করে বাড়ির ঠিকানা, সমস্ত বিষয় রেসপন্স সিস্টেমে দেখা যাবে। ফলে কল করা ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা বা তাঁর অবস্থান খুব সহজেই জানা যাবে। কেউ যদি ভুয়ো কল করে তাহলে তাও সহজে ধরা যাবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে আটক বা গ্রেপ্তার করা যাবে। গোটা সিস্টেমটি পরিচালনা করার জন্য দরকার একটি অত্যাধুনিক সফটওয়ার। এই সফটওয়ার ডেটা বিশ্লেষণ করবে। সেই সঙ্গে লাগবে জিপিএস ভিত্তিক ব্যবস্থার পরিকাঠামো। সেই কাজের জন্য ইতিমধ্যেই তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে। নতুন ‘১১২’ নম্বরের সঙ্গে পুরনো ‘১০০’ নম্বরও থাকছে। এই নতুন নম্বর চালু হলে খুব দ্রুততার সঙ্গে খবর বিভিন্ন জরুরি বিভাগে পৌঁছে যাবে। এছাড়া জিপিএস লোকেশন দিয়ে কারও বাড়ি বা ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছতে পারবেন পুলিশ, দমকল বা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা।
Advertisement



