কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দপ্তরের সামনে ধর্নায় বসে বাধার মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের আট সাংসদ। শুক্রবার সকাল আটটা নাগাদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বাইরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন তৃণমূল সাংসদরা। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে প্ল্যাকার্ড হাতে তাঁরা কেন্দ্র-বিরোধী প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। যদিও বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল, তবু অমিত শাহ ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠায় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সূত্রের খবর, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই দিল্লি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সাংসদদের সেখান থেকে সরাতে গেলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, শতাব্দী রায়, কীর্তি আজাদ, বাপি হালদার, সাকেত গোখলে, প্রতিমা মণ্ডল ও শর্মিলা সরকার— এই আটজন সাংসদ ধর্নায় উপস্থিত ছিলেন।
Advertisement
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, শতাব্দী রায়, বাপি হালদার ও সাকেত গোখলেকে টেনে-হিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। তাঁদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ধস্তাধস্তির সময় ডেরেক ও’ব্রায়েন পুলিশকে উদ্দেশ করে বারবার বলেন, ‘আমাদের সাংসদদের গায়ে হাত দেবেন না। এখানে সাংসদদের সঙ্গে কী হচ্ছে, আপনারা নিজেরাই দেখছেন।’
Advertisement
দুপুর তিনটে নাগাদ দিল্লি পুলিশ তৃণমূল সাংসদদের একটি কাগজে লিখিয়ে নেয় যে তাঁরা শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। এরপর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় কোনও মামলা রুজু হয়নি এবং সাংসদদের গ্রেপ্তারও করা হয়নি।
এই প্রতিবাদের পেছনে রয়েছে বৃহস্পতিবার কলকাতায় তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের দপ্তরে ইডির অভিযান। আইপ্যাকের কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়ি ও দপ্তরে তল্লাশি চালানোকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছে তৃণমূল। দলের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী তথ্য হাতিয়ে নিতেই ইডি অভিযান চালিয়েছে এবং তা হয়েছে সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে।
এই অভিযোগের প্রতিবাদেই শুক্রবার দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সামনে ধর্নায় বসেন তৃণমূল সাংসদরা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে তৃণমূলকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার।
এই ঘটনার পর রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের বক্তব্য, সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে সাংসদদের ওপর বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি ও দিল্লি পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, আইপ্যাক-ইডি বিতর্ক ঘিরে কেন্দ্র ও তৃণমূলের সংঘাত আগামী দিনে আরও তীব্র আকার নিতে চলেছে।
Advertisement



