বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হিংসাত্মক ঘটনার প্রেক্ষিতে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানাল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সংগঠনের এক মুখপাত্র বিনোদ বনশলের অভিযোগ, ‘নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি এখন নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছেন’। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দাবি, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ধারাবাহিক হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা সামনে আসছে। অথচ আন্তর্জাতিক মহলে যাঁকে শান্তি ও মানবাধিকারের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়, তাঁর তরফে কোনও জোরালো প্রতিবাদ বা উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। বিনোদ বনশল বলেন, ‘যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে, সেখানে নীরবতা মানে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া’।
Advertisement
তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশের পরিস্থিতি শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, এটি মানবিক সঙ্কট। বহু পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, ঘরছাড়া হওয়ার ভয় কাজ করছে। এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক স্তরে নৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া উচিত ছিল বলে মত বিশ্ব হিন্দু পরিষদের।
Advertisement
সংগঠনটির তরফে আরও বলা হয়েছে, ভারত সরকারকে কূটনৈতিক স্তরে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরতে হবে। বাংলাদেশ প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই হিংসার বিষয়টি তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বাংলাদেশে পরিস্থিতি সংবেদনশীল এবং যে কোনও মন্তব্য বা পদক্ষেপ ভারসাম্য বজায় রেখে করতে হয়। তবে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এই মন্তব্যে স্পষ্ট, সংগঠনটি চাইছে আরও দৃশ্যমান ও সক্রিয় আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া।
বাংলাদেশের হিংসা নিয়ে আলোচনা যত বাড়ছে, ততই প্রশ্ন উঠছে নৈতিক দায়িত্ব, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে। এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
Advertisement



