রাজ্যের কৃষি দপ্তর রবি মরশুমে ফসল বিমায় আবেদনের শেষ তারিখ বাড়িয়েছে। পূর্বের মতো ৩১ ডিসেম্বরের বদলে এবার ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কৃষকরা বিমার জন্য আবেদন করতে পারবেন। পাশাপাশি বোরো চাষের ক্ষেত্রে আবেদন নেওয়া হবে মার্চ মাসের শেষ দিন পর্যন্ত।
চাষিদের একাংশের অভিযোগ, নতুন মরশুমের জন্য আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও গত খরিফ মরশুমের ক্ষতিপূরণ এখনও পাননি তাঁরা। বর্তমানে ফসল বিমার ক্ষতিপূরণ ঠিক করা হয় উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে। তবুও ক্ষতিপূরণ পেতে দেরি হওয়ায় ক্ষুব্ধ কৃষকরা।
Advertisement
কৃষি দপ্তর সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাঙ্ক ও সমবায়ের মাধ্যমে ঋণ নেওয়া কৃষকদের আলাদা করে বিমার আবেদন করতে হয় না। তবে যাঁরা ঋণ নেন না, তাঁদেরকে স্বতঃসিদ্ধভাবে বিমার আবেদন জমা দিতে হয়। রাজ্য সরকার ফসল বিমার প্রিমিয়ামের টাকাও প্রদান করে। তাই এই বিমা রাজ্যের কৃষকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়।
Advertisement
ফসল বিমায় আবেদন করতে হলে প্রথমে কৃষককে কৃষি দপ্তর থেকে ফসল রোপণের শংসাপত্র নিতে হবে। অর্থাৎ, কতটা জমিতে চাষ হয়েছে তা আধিকারিকরা যাচাই করে কৃষকের হাতে শংসাপত্র তুলে দেবেন। এরপর কৃষক ওই শংসাপত্রের সঙ্গে নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও আধার কার্ডের কপি সংযুক্ত করে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিমা সংস্থার কাছে আবেদনপত্র জমা দেবেন। বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে শস্যহানি হলে বিমা সংস্থা ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে।
প্রসঙ্গত, খরিফ মরশুমের জন্য ফসল বিমার আবেদন চলতি বছর ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছিল। এবার রাজ্য সরকার তা ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। গম, ছোলা, মুসুর, সর্ষে, খেসারি সহ সমস্ত রবিশস্যের জন্য বিমার আবেদন গ্রহণ করা হবে। বোরো চাষের জন্য আবেদন নেওয়া হবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত।
কৃষক সংগ্রাম পরিষদের সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র নায়ক জানান, ‘ফসল বিমায় আবেদনের মেয়াদ বাড়ানো খুবই ভালো পদক্ষেপ। কিন্তু চাষিরা এখনও গত খরিফ মরশুমের ক্ষতিপূরণ পাননি। দ্রুত সেই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।’
এ প্রসঙ্গে শস্যবিমার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা কোঅর্ডিনেটর শান্তনু হাণ্ডা জানান, ‘রবি শস্যের জন্য বিমার আবেদনের সময় আরও এক মাস বাড়ানো হয়েছে। খরিফ মরশুমের ক্ষতিপূরণ শিগগিরই দেওয়া হবে।’
Advertisement



