বেঞ্চমার্ক প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ আরও সহজ, সম্মানজনক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন। ইউপিএসসি জানিয়েছে, এবার থেকে বেঞ্চমার্ক প্রতিবন্ধী শ্রেণিভুক্ত প্রত্যেক পরীক্ষার্থী আবেদনপত্রে যে পরীক্ষাকেন্দ্র পছন্দ করবেন, সেই কেন্দ্রই তাঁকে বরাদ্দ করা হবে। এই ব্যবস্থার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সেন্টার অব চয়েস’।
ইউপিএসসি সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই বেঞ্চমার্ক প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষাকেন্দ্র সংক্রান্ত নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা কেন্দ্র পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের দূরবর্তী বা অসুবিধাজনক কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হতে হত। যাতায়াত, শারীরিক সহায়তা এবং পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষার আগেই মানসিক ও শারীরিক চাপ বেড়ে যেত। এই বাস্তব পরিস্থিতি মাথায় রেখেই কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
Advertisement
ইউপিএসসির চেয়ারম্যান ডা. অজয় কুমার জানান, গত পাঁচ বছরের পরীক্ষাকেন্দ্র সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, দিল্লি, কটক, পাটনা, লখনউ-সহ একাধিক জনপ্রিয় কেন্দ্রে খুব দ্রুত আসন পূর্ণ হয়ে যায়। বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর কারণে এই কেন্দ্রগুলি অল্প সময়ের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে বেঞ্চমার্ক প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়েন। নতুন ব্যবস্থায় সেই বাধা আর থাকবে না বলেই জানিয়েছেন তিনি।
Advertisement
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রের নির্ধারিত আসন প্রথমে সাধারণ এবং বেঞ্চমার্ক প্রতিবন্ধী— উভয় শ্রেণির পরীক্ষার্থীর জন্যই খোলা থাকবে। কিন্তু কোনও কেন্দ্র পূর্ণ হয়ে গেলে, সেই কেন্দ্র সাধারণ পরীক্ষার্থীদের জন্য আর উপলব্ধ থাকবে না। তবে বেঞ্চমার্ক প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা সেই কেন্দ্র নির্বাচন করার সুযোগ পাবেন। প্রয়োজনে কমিশন অতিরিক্ত আসনের ব্যবস্থাও করবে, যাতে কোনও বেঞ্চমার্ক প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী তাঁর পছন্দের কেন্দ্র থেকে বঞ্চিত না হন।
ইউপিএসসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পরীক্ষার সময়ে পরীক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে র্যাম্প, সহায়ক প্রবেশপথ, শৌচাগার এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক ব্যবস্থার দিকেও নজর দেওয়া হবে।
শিক্ষা ও প্রশাসনিক মহলের মতে, দেশের অন্যতম কঠিন ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বেঞ্চমার্ক প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পথে ইউপিএসসির এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরীক্ষাব্যবস্থার দিশা দেখাবে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
Advertisement



