বুথ স্তরের কর্মীদের লাগাতার ধর্না, বিক্ষোভ এবং সিইও দপ্তরের সামনে টানা ভিড়ের জেরে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে লালবাজারের কাছ থেকে সিইও দপ্তরের নিরাপত্তা নিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন।
সম্প্রতি এসআইআর–সংক্রান্ত অতিরিক্ত কাজের চাপ, অতিরিক্ত সময়ের দায়িত্ব, কর্মপরিবেশ এবং নানা অভিযোগের বিরুদ্ধে বিএলও সংগঠনের একাংশরা রাজ্য নির্বাচন দপ্তরের সামনে টানা ধর্নায় বসেছিলেন। ধর্নার দ্বিতীয় দিন থেকে জনসমাগম আরও বাড়তে থাকে। অভিযোগ, কয়েকটি সময়ে দপ্তরের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিকেই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও উদ্বেগজনক বলে মনে করেছে কমিশন।
Advertisement
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সিইও দপ্তরের নিরাপত্তা পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন বলে মনে করা হয়েছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণে কোথায় ফাঁক রয়ে গিয়েছে, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, দপ্তরের ভিতর ও বাইরের নিরাপত্তা বলয় কতটা শক্তিশালী—এসব প্রশ্নের উত্তর চেয়েই লালবাজারকে ৪৮ ঘণ্টার নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কমিশন।
Advertisement
সূত্রের দাবি, এই ধরণের ভিড় জমায়েত কোনও সরকারি দপ্তরের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে রাজ্য নির্বাচন দপ্তরের মতো সংবেদনশীল প্রশাসনিক কেন্দ্রের সামনে এমন ভিড় কমিশনের কাছে অত্যন্ত গুরুতর। এর পুনরাবৃত্তি রুখতে আগাম পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্দেশ্যে এই রিপোর্ট চাই কমিশন।
ধর্নায় সামিল হওয়া বিএলও কর্মীদের অভিযোগ, তাঁদের ওপর অযৌক্তিকভাবে অত্যধিক কাজের চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। কৃষিকাজের মরসুমে তিন বছরের দায়িত্ব দু’মাসে শেষ করার নির্দেশকে তাঁরা অসম্ভব বলে দাবি করেছেন। নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দপ্তরে প্রবেশের ক্ষেত্রে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা এই রিপোর্ট চাওয়ার নেপথ্যে একটি বড় কারণ বলে মনে করছেন প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে লালবাজারের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে। কোন সময় কত ভিড় হয়েছিল, কোথায় কোথায় নিরাপত্তা ব্যূহ দুর্বল হয়েছিল এবং ভবিষ্যতে দপ্তরের নিরাপত্তা রক্ষায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে— সবকিছুই ওই রিপোর্টে উল্লেখ থাকবে।
অন্যদিকে, নির্বাচন দপ্তর সূত্রে খবর, ভবিষ্যতে এই ধরনের জমায়েত নিয়ন্ত্রণে আগাম কয়েক দফা সভা–আলোচনা চালানোর কথাও ভাবা হয়েছে। প্রয়োজন হলে দপ্তরে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, বিএলও আন্দোলনের পর যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব প্রশাসনিক স্তর পেরিয়ে এখন সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নজরে পৌঁছে গিয়েছে। আগামী রিপোর্টেই স্পষ্ট হবে, রাজ্যের নির্বাচন দপ্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কর্তৃপক্ষ কী কী বদল আনতে চলেছে।
Advertisement



