বেসরকারি সংস্থায় কর্মজীবী মানুষের কাছে আজকাল সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, ‘কাজের জন্য জীবন’ নাকি ‘জীবনের স্বার্থে কাজ’? কর্পোরেট দুনিয়ার চাপে সেই ধারণা ক্রমশ গুলিয়ে যাচ্ছে। তার সাম্প্রতিক প্রমাণ, এক বেসরকারি সংস্থার কর্মীকে তাঁর স্ত্রীর প্রসব যন্ত্রণার সময়েও অফিসের কাজ করতে বাধ্য করার মতো তুঘলকি নির্দেশ! স্ত্রীর পাশে থাকার জন্য মাত্র দু’দিনের ছুটি চেয়েছিলেন কর্মী। অথচ তাঁর ম্যানেজারের জবাব, ‘হাসপাতাল থেকেই কাজ করুন।’
ঘটনার স্ক্রিনশট সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফুঁসছে নেটিজেনরা। কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য, সহমর্মিতা— সব কিছুকে ছাপিয়ে সংস্থার লক্ষ যেন শুধুই কাজের প্রতি কর্মীর অন্ধ আনুগত্য।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্ত্রী প্রসববেদনায় হাসপাতালে ভর্তি। স্বামীর আবেদনে স্বাভাবিকভাবেই আশা ছিল সহানুভূতির। কিন্তু ম্যানেজারের যুক্তি— হাসপাতালে তেমন কিছু করতে হয় না। তাই ল্যাপটপ খুলে কাজ করতে কোনও অসুবিধা নেই! কর্মী আপত্তি জানিয়ে বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে স্ত্রীর পাশে থাকা সবচেয়ে জরুরি।’ তবু ছুটি মঞ্জুর না করে ই-মেল করে ছুটির আবেদন জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Advertisement
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কর্পোরেট দুনিয়ায় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’, ‘ওয়ার্ক ফ্রম এনিহোয়্যার’, নমনীয় সময়সূচির আড়ালে কর্মীদের ওপর অদৃশ্য চাপ আরও বেড়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। যেখানেই থাকুন, যতই ব্যক্তিগত সংকট চলুক— কাজ যেন থেমে না যায়!
সপ্তাহে ৭০ ঘণ্টা কাজের প্রস্তাব নিয়ে ইনফোসিস প্রতিষ্ঠাতা নারায়ণমূর্তির মন্তব্য এখনও আলোচনায়। তারই মধ্যে নতুন শ্রমবিধি সংশোধনে কেন্দ্র ২৯টি পরিবর্তন এনেছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, আইন করে কি কর্পোরেট শোষণের মানসিকতা আটকানো সম্ভব?
বিশ্লেষকদের মতে, যতক্ষণ না কর্মীরা একত্রে আওয়াজ তুলবেন, ততক্ষণ এই অমানবিক চাপের চাকা ঘুরতেই থাকবে। পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, ‘কর্পোরেটে কর্মীরা আর মানুষ নয়, যেন মেশিন। ব্যক্তিজীবন, আবেগ, পারিবারিক প্রয়োজনের কোনও জায়গা নেই।’
এই ঘটনায় স্পষ্ট, কর্মস্থলে মানবিকতার গলা টিপে মারছে কর্মসংস্কৃতি। সময় এসেছে প্রশ্ন তোলার, কাজ কি মানুষের উন্নতি আনে, না মানুষকেই কাজের ইন্ধনে নিঃশেষ করে দেয়?
Advertisement



