রতন ভট্টাচার্য
ভারতীয় নবজাগরণের জনক হিসাবে যাকে স্মরণ করা হয়, তিনি রামমোহন রায়। উনিশ শতকের গোড়ায় জন্ম নেওয়া এই বিশাল মাপের মনীষী কেবল একজন সমাজসংস্কারক নন, তিনি এমন এক চিন্তাশক্তির অধিকারী ছিলেন, যিনি ভারতীয় জনমানসকে দীর্ঘদিনের অন্ধকার, কুসংস্কার আর অনাচারের বন্ধন থেকে বাইরে এনে আধুনিকতার আলো দেখিয়েছিলেন। তাঁর সংগ্রাম ছিল বহুমুখী— নারী স্বাধীনতা, শিক্ষার প্রসার, ধর্মীয় মানবতা, যুক্তিবাদ, ভাষা সংস্কার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রচিন্তা পর্যন্ত। কিন্তু আজকের দুনিয়া আর সেই উনিশ শতকের ভারত এক নয়। প্রশ্ন জাগে—এই ডিজিটাল যুগে, তথ্যের বিস্ফোরণের যুগে, জেন জি–র কাছে যাঁরা দ্রুততা, স্বাধীনতা, উদারতা, প্রযুক্তি ও আত্মপরিচয়ের ভেতর দিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে চান—তাঁদের কাছে কি এখনও রামমোহন ৰায় প্রাসঙ্গিক? সময় যত পাল্টায়, মূল্যবোধ ও চিন্তার ভিত্তিও বদলায়। কিন্তু কিছু মানুষ এমন, যাঁদের চিন্তা যুগ অতিক্রম করেও জীবন্ত থাকে। রামমোহন সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন।
Advertisement
জেন জি— যাদের আমরা ১৯৯৭ সাল থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া এক নতুন যুগের মানুষ হিসেবে দেখি— তাঁরা বড় হয়েছেন ইন্টারনেট, স্মার্টফোন, ইউটিউব, সোশ্যাল মিডিয়া, গ্লোবাল সংযোগ, এবং উন্মুক্ত মত প্রকাশের দুনিয়ায়। তারা বৈচিত্র্যকে সম্মান করে, স্বাধীনতাকে উপভোগ করে, দ্রুততার সঙ্গে মত বদলায়, তথ্যের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেয়। এই বিবর্তিত পরিচয়ের জায়গায় দাঁড়িয়ে যদি আমরা ঔপনিবেশিক ভারতের সেই সাহসী মানুষটিকে দেখি—যিনি দেড়শো বছরেরও বেশি আগে একই রকম মুক্ত চিন্তা ও মানবতার কথা বলেছিলেন—তাহলে দেখা যাবে, তাঁর ভাবনা আজকের তরুণদের জীবন-দর্শনের সঙ্গে বিস্ময়করভাবে মিল খুঁজে পায়। জেন জি–র আত্মবিশ্বাসী চরিত্রের মধ্যে যেমন নতুনের খোঁজ আছে, তেমনই আছে মানবিক দৃষ্টি। আর ঠিক এই মানবিক দৃষ্টিই ছিল রামমোহন ৰায়ের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু।
Advertisement
শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি রামমোহনৰ দৃষ্টিভঙ্গি আজকের তরুণদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তিনি আধুনিক বিজ্ঞানের শিক্ষা, ইংরেজি শিখে বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ, একই সঙ্গে মাতৃভাষার শক্তিকে ধরে রাখার কথা বলেছিলেন। আজকের জেন জি–কেও একই পথ অনুসরণ করতে হয়—একদিকে গ্লোবাল ইংরেজি জগৎ, অন্যদিকে নিজের মাতৃভাষা ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখার চেষ্টা। তিনি প্রথমদের মধ্যে ছিলেন যিনি বুঝেছিলেন—শিক্ষা শুধু শাস্ত্রীয় জ্ঞানে নয়, বিজ্ঞান ও যুক্তির আলোয় ভরপুর হওয়া প্রয়োজন। ইন্টারনেট যুগের শিক্ষার সঙ্গে তাঁর ধারণার মিল স্পষ্ট—তথ্য সর্বত্র ছড়িয়ে আছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে হবে যুক্তি দিয়ে। তথ্যের জঙ্গল থেকে সত্যকে বেছে নেওয়া শেখা আজকের তরুণদের কাছে অত্যন্ত জরুরি। তাঁর এই যুক্তিনির্ভর শিক্ষা দর্শন আজও প্রাসঙ্গিক। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি তাঁর অবদান আজকের সোশ্যাল মিডিয়া–নির্ভর জেন জি–র কাছে বিশেষভাবে মূল্যবান। তিনি সম্বাদ কাউমুদী ও মিরাত-উল-আখবার পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন স্বাধীন মতপ্রকাশের উদ্দেশ্যে। তিনি স্পষ্টভাবে বুঝেছিলেন— মানুষের চিন্তার স্বাধীনতা সমাজের ভিত্তি। আজকের তরুণরা প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের মতামত প্রকাশ করে, ভিডিও বানায়, লেখে, সমালোচনা করে। তবে এই স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন—অসত্য তথ্য, ঘৃণা, বিভাজন ছড়ানোর প্রবণতা আজ বড় সমস্যা। রামমোহন শিখিয়েছিলেন—সত্য, যুক্তি ও মানবতার পথে মতপ্রকাশ হওয়া উচিত। তাই জেন জি–র সোশ্যাল মিডিয়া সংস্কৃতির ভিড়ে তাঁর সতর্কতা ও নীতিবোধ বিশেষভাবে জরুরি। তিনি ছিলেন একজন বিশ্বনাগরিক। ভারত, ইংল্যান্ড, পারস্য, আরবি—যে ভাষাই তাঁর সামনে এসেছে, তিনি শিখেছেন। বিভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তিনি বুঝেছিলেন যে ভারতের উন্নতির জন্য বিশ্বের সঙ্গে মতবিনিময় জরুরি। জেন জি আজ সে রকমই এক প্রজন্ম—যারা আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব, বিশ্বব্যাপী সচেতনতা, গ্লোবাল ওয়ার্ক কালচার, বিদেশে পড়াশোনা, বহুসংস্কৃতি গ্রহণ—এসবের সঙ্গে অভ্যস্ত। সুতরাং রামমোহন ৰায়ের চিন্তা তাদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি করে।
রামমোহন রায়ের সর্বাধিক আলোচিত অবদান—সতীদাহ প্রথা বিলোপ— আজকের জেন জি–র কাছে নারীবাদ, লিঙ্গসমতা, মানবাধিকারের বড় পাঠ হিসেবে দাঁড়ায়। সেই সময়ে নারী স্বাধীনতা বলতে কিছু ছিল না। সামাজিক নিয়ম পুরুষকেন্দ্রিক, নির্দয় ও কুসংস্কারে ভরা। এমন সময়ে দাঁড়িয়ে তিনি সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে এককভাবে লড়েছিলেন। যুক্তি, শাস্ত্র, মানবতা— এই তিন অস্ত্রে তিনি সমাজের চোখ খুলেছিলেন। জেন জি এমন এক বিশ্বে বাস করে যেখানে মেয়েরা স্টার্ট-আপ তৈরি করছে, খেলাধুলায় বিশ্বজয় করছে, রাজনীতি থেকে মহাকাশ গবেষণা—সব জায়গায় নিজেদের প্রতিষ্ঠা করছে। কিন্তু তবু লিঙ্গবৈষম্য পুরোপুরি মুছে যায়নি। এখনও নারী অবমাননা, সাইবার বুলিং, যৌন সহিংসতা, লিঙ্গবৈষম্যমূলক মন্তব্যের মতো সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হতে হয় তরুণ প্রজন্মকে। এই বাস্তবতায় রামমোহন রায়ের সংগ্রাম তাদের মনে করিয়ে দেয়—নারীর অধিকার রক্ষা একটি চলমান দায়িত্ব। সমাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বদলায় না; বদলাতে হয় সচেতনতার মাধ্যমে। এই শিক্ষা আজও ততটাই প্রয়োজনীয়।
যুক্তিবাদ ও মানবধর্মের ক্ষেত্রে তাঁর যে উদার মানসিকতা ছিল, তা আজকের জেন জি–র চিন্তাজগতের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। আজকের তরুণরা ধর্মের কঠোর গণ্ডির বাইরে দাঁড়িয়ে মানবতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। তারা ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, নৈতিকতা, মানবতা ও বৈশ্বিক নাগরিকত্বকে বেশি গুরুত্ব দেয়। রামমোহনও সেই কথাই বলেছিলেন— ধর্মের প্রকৃত লক্ষ্য মানুষের উন্নতি। তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ অধ্যয়ন করেছেন, হিন্দু, ইসলাম, খ্রিস্টধর্ম—সবার মধ্যেই মানবতার সুর খুঁজেছেন। তাঁর ব্রাহ্মসমাজ গঠনের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল এক নতুন ধরনের আধ্যাত্মিকতা, যা কুসংস্কারকে ভেঙে যুক্তি ও নৈতিকতাকে প্রতিষ্ঠা করেছিল। জেন জি–র কাছে এ এক বিশাল প্রাসঙ্গিকতা— তারা আজ ধর্মের নামে বিভাজন চায় না, চায় শান্তি, সমতা ও স্বাধীনতা। সামাজিক সংস্কারের প্রতি তাঁর যে সাহসিকতা ছিল তা আজকের তরুণ প্রজন্মকে আত্মপ্রত্যয়ী হতে শেখায়। তিনি একা লড়েছেন, অনেক প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়েছেন, তবুও থেমে যাননি। জেন জি পরিবেশ রক্ষা, নারী অধিকার, LGBTQ+ অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, মানসিক স্বাস্থ্য—এই সব বিষয়ে সোচ্চার। তাঁরা বিশ্বাস করে যে একজন মানুষও পরিবর্তন আনতে পারে। রামমোহন সেই বিশ্বাসের প্রতীক— একজন মানুষের দৃঢ়তা পুরো সমাজ বদলে দিতে পারে।
আজকের সমস্যা ভিন্ন— অনলাইন নির্ভরতা, মানসিক চাপ, পরিচয়ের সংকট, ফেক নিউজ, বিভাজন, পরিবেশ সংকট—কিন্তু এগুলো মোকাবিলায় যুক্তি, মানবতা ও নৈতিকতা যে অপরিহার্য, তা রামমোহন বহু আগে বলেছেন। তাঁর ব্যতিক্রমী দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—গতানুগতিক ধারার অন্ধ অনুসরণ নয়, বরং সজাগ দৃষ্টিতে সত্যকে খুঁজে পাওয়া প্রয়োজন। তাঁর আধুনিক ভাবনা, সংস্কারমুখী মনোভাব এবং ঔপনিবেশিক শাসকদের সঙ্গে সীমিত প্রশাসনিক সহযোগিতা থেকে তৈরি হয়েছিল। তিনি ছিলেন ঔপনিবেশিক শাসনের সমালোচক, সমর্থক নন।রামমোহন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের নৈতিক ভিত্তিকেই প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন— ‘ইংরেজ শাসন তখনই গ্রহণযোগ্য, যখন তা ন্যায় ও মানবাধিকারের প্রতিফলন ঘটাবে।’ তিনি ব্রিটিশদের কাছে শাসনতন্ত্রে ভারতীয়দের অংশগ্রহণ, প্রশাসন ও আদালতের সংস্কার, শিক্ষা নীতি পরিবর্তন ইত্যাদি দাবি করেছিলেন।
এগুলো দালালি নয়— বরং উপনিবেশের ভেতর থেকেই লড়াই করা এক ধরনের সংস্কারমূলক প্রতিরোধ। সতীদাহ প্রথা বিলোপ— ব্রিটিশ সুবিধার জন্য নয়, মানবতার জন্য। অনেকে ভুলভাবে বলেন যে তিনি ব্রিটিশদের হয়ে সতীদাহ বিলোপ করিয়েছিলেন। কিন্তু—সতীদাহ উচ্ছেদের জন্য তিনি বহু বছর ধরে হিন্দু ধর্মগ্রন্থের ভেতর থেকে যুক্তি তুলে ধরছিলেন। ব্রিটিশ সরকার আইন করে নিষিদ্ধ করে তাঁর আন্দোলনের চাপে। তাঁর যুক্তি ছিল একান্ত মানবিক ও ধর্মীয়— কোনওভাবেই ব্রিটিশ নীতির স্বার্থে নয়।
শিক্ষা সংস্কারে তাঁর ভূমিকা ভারতীয় সমাজের উন্নতির জন্য রামমোহন চেয়েছিলেন—বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা। ইংরেজি শিক্ষা, যাতে ভারতীয়রা বিশ্বের জ্ঞান ভাণ্ডারে অংশ নিতে পারে। আত্মসম্মান তৈরি করা। তিনি ইংরেজদের অনুরোধ করেছিলেন ইংরেজি শিক্ষা চালু করতে— কারণ তিনি বুঝেছিলেন আধুনিক শিক্ষা ছাড়া ভারত উন্নত হবে না। এটি ব্রিটিশ স্বার্থরক্ষা নয়— বরং দূরদৃষ্টি। ধর্মীয় কুসংস্কার, পুরোহিততন্ত্র ও সামন্ত প্রথার বিরুদ্ধে তাঁর সংগ্রাম। এইসব সংস্কারের ফলে সমাজের একাংশ তাঁকে অপছন্দ করত— এবং তাঁকে ‘ব্রিটিশ দালাল’ বলত। কারণ— তিনি ব্রাহ্মণ আধিপত্য, অন্ধবিশ্বাস এবং রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে ছিলেন। তাঁর সাংস্কৃতিক শত্রুদের জন্য তাঁকে অপদস্থ করার জন্য দালাল বলা সহজ ছিল। কিন্তু তিনি ব্রিটিশকে ধর্ম বা সমাজের শিক্ষক হিসেবে মানেননি— বরং ভারতীয় সমাজকে নিজের ভিতর থেকে বদলাতে চেয়েছিলেন। ‘Rights of Hindus’— তিনি ভারতীয়দের অধিকার রক্ষায় ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধেই দাঁড়ান। তিনি ইংরেজ নীতির অন্যায় দিক প্রকাশ করে The Bengal Herald, Sambad Kaumudi প্রভৃতি পত্রিকায় বহু বার্তা লিখেছিলেন। তিনি বলেছিলেন— ‘শাসনব্যবস্থা ভারতের জনগণের কল্যাণসাধন করলেই তা গ্রহণযোগ্য।’ অর্থাৎ তাঁর সমর্থন ছিল শর্তসাপেক্ষ, নিঃশর্ত নয়। রামমোহন ছিলেন না— ব্রিটিশদের অন্ধ সমর্থক,আবার ছিলেন না অন্ধ বিরোধী।তিনি ছিলেন মধ্যপন্থী আধুনিকতাবাদী। রবীন্দ্রনাথও সব ইংরেজদের শত্রু ভাবেন নি। শেকসপীয়র শেলী কীটস ছিলেন বড় ইংরেজ, লর্ড ক্লাইভ ওরা ছোট ইংরেজ। তাই তাঁকে ভুল বোঝা হয়েছে। তিনি ছিলেন—আধুনিক জ্ঞান + মানবাধিকার + ভারতীয় ধর্মীয় সংস্কার—এই তিনের সমন্বয়সাধনকারী। যে যুগে অধিকাংশ ভারতীয় ভাবত—ব্রিটিশদের সবই খারাপ অথবা ব্রিটিশ সবই ভালো কিন্তু সেই যুগে রামমোহন বলেছিলেন— ‘ভালো জিনিস গ্রহণ কর, খারাপের বিরোধিতা কর৷’ ব্রিটিশ সংসদে ভারতীয়দের অধিকার রক্ষায় তাঁর যাত্রাতেও তিনি নিজের খরচে ইংল্যান্ড গিয়েছিলেন- বিলুপ্ত হতে থাকা মুঘল সম্রাটের ভাতা রক্ষা করতে, ভারতীয়দের অধিকারের দাবিতে ব্রিটিশ সংসদে স্মারকলিপি জমা দিতে। ৱামমোহন ৰায় ছিলেন— ভারতের প্রথম আধুনিক বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকার ও নারীস্বাধীনতার প্রবক্তা,কুসংস্কার ও সামন্তপ্রথার বিরুদ্ধে বিপ্লবী চিন্তাবিদ, বিদ্যা, যুক্তি ও ধর্মীয় উদারতার পথিকৃৎ তিনি ছিলেন এমন এক ভারতীয়, যিনি ঔপনিবেশিক পরাধীনতার ভেতরেও সাহসের সঙ্গে সমাজকে বদলাতে চেয়েছিলেন—এবং বদলে গেছেন।
জেন জি–র কাছেও তিনি প্রাসঙ্গিক একটি বড় কারণে— তিনি ছিলেন স্বাধীন চিন্তার যোদ্ধা। আজকের তরুণেরা কর্তৃত্ব মানতে চায় না, প্রশ্ন করতে ভালোবাসে। তর্ক, বিতর্ক, গবেষণা— এইগুলো তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। রামমোহনও ছিলেন প্রশ্নকারী। তিনি প্রশ্ন করেছিলেন শাস্ত্রের ভুল ব্যাখ্যা, সামাজিক অনাচার, ধর্মীয় কুসংস্কার, অন্ধ অনুকরণ সবকিছু নিয়ে। জেন জি–র প্রশ্নবোধ তাঁর সঙ্গে গভীর সেতুবন্ধন তৈরি করে। এই দীর্ঘ পথচলার মাঝেও আমরা বুঝতে পারি— যে মানুষটি দুশো বছর আগে সমাজে আলো জ্বালিয়েছিলেন, তিনি আজও সমানভাবে আলো ছড়ান।
পরিবর্তনশীল পৃথিবীতেও তাঁর চিন্তাধারা অব্যাহত। কারণ মানবতার আলো কখনও নিভে যায় না। তরুণেরা যে দুনিয়া তৈরি করছে— তাতে সমতা, সত্য ও সদ্ভাব যদি স্থান পেতে হয়, তখন রামমোহন ৰায়ের দর্শন তাদের দিশা দেখায়। অতএব, রামমোহন শুধু ইতিহাসের চরিত্র নন। তিনি সময়ের সীমানা অতিক্রম করা এক ধ্রুবতারা। জেন জি–র মূল্যবোধ, চ্যালেঞ্জ, স্বপ্ন ও সংগ্রামের সঙ্গে তাঁর চিন্তার সঙ্গতি বিস্ময়করভাবে মিল খুঁজে পায়। প্রযুক্তি বদলেছে, পরিধান বদলেছে, যোগাযোগ বদলেছে— কিন্তু মানবতা, যুক্তি, ন্যায়, স্বাধীনতা—এই চিরন্তন সত্যগুলোর প্রয়োজন আজও অপরিবর্তিত। সুতরাং স্পষ্ট—ৱামমোহন ৰায় আজও নতুন প্রজন্মের কাছে প্রাসঙ্গিক, প্রয়োজনীয়, এবং অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর আদর্শ যেন স্মরণ করিয়ে দেয়—প্রত্যেক যুগেই একজন তরুণের প্রশ্ন ও সচেতনতার ভিতরেই জন্ম নেয় নতুন সমাজ।
Advertisement



