প্রশ্নের বিনিময় ঘুষ কাণ্ডে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে সিবিআই–কে চার্জশিট জমা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে লোকপাল। লোকপালের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ। বিচারপতি অনিল ক্ষেত্রপাল এবং বিচারপতি হরিশ বৈদন্যাথ শঙ্করের বেঞ্চ মহুয়ার এই মামলাটি গ্রহণ করেছে। আগামী শুক্রবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
মহুয়ার দাবি, লোকপালের নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় লোকপাল সিবিআইকে চার্জশিট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে তা ত্রুটিপূর্ণ। এই বিষয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। ২০২৪ সালে মহুয়ার বিরুদ্ধে সংসদে প্রশ্নের বিনিময় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, দুবাইয়ের শিল্পপতি দর্শন হীরানন্দানির কাছ থেকে এর জন্য টাকা ও সুবিধা নিয়ে শিল্পপতি গৌতম আদানি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করেছিলেন তিনি। এই অভিযোগ জানিয়ে তাঁকে সাংসদ পদ থেকে বরখাস্ত করার দাবি তুলেছিলেন বিজেপির সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। সেই সময় মহুয়ার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছিলেন তাঁর প্রাক্তন বন্ধু জয় অনন্ত দেহাদ্রাইও। লোকপালের নির্দেশের পর মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। তদন্তে নেমে ২৬ জন সাক্ষীর সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা। ৬ মাসের মধ্যে সিবিআই তদন্তের বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেয়। রিপোর্টে উঠে আসে, ঘুষ নিয়ে সংসদে মোট ৬১টি প্রশ্ন করেছেন মহুয়া। তার মধ্যে তিনটি প্রশ্ন অফলাইনে ও বাকিগুলি অনলাইনে আপলোড করা হয়েছিল। এই অভিযোগের যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করে সিবিআই। এরপরই মহুয়ার সাংসদপদ খারিজ হয়ে যায়। যদিও ২০২৪ সালে ফের তৃণমূলের টিকিটে কৃষ্ণনগর থেকে জিতে সাংসদ নির্বাচিত হন মহুয়া।
Advertisement
প্রশ্ন কাণ্ডে তদন্তের পর মহুয়ার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার অনুমতি চেয়েছিল সিবিআই। গত বুধবার সিবিআইকে চার্জশিট পেশের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় লোকপালের পূর্ণ বেঞ্চ। তবে মহুয়ার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরুর অনুমতি দেয়নি লোকপাল। জানানো হয়, আদালতে মহুয়ার বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়ার পরেই সিবিআইয়ের দ্বিতীয় আবেদনটি বিবেচনা করে দেখা হবে। কারণ সাংসদের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পর্কে আগে আদালতকে অবহিত করা জরুরি। লোকপালের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হলেন মহুয়া।
Advertisement
Advertisement



