পশ্চিমবঙ্গ সহ ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আজ থেকে শুরু হচ্ছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন তথা এসআইআর–এর এনুমারেশন প্রক্রিয়ার কাজ। এদিন থেকে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিতরণ করবেন বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও–রা। কীভাবে ফর্ম পূরণ করতে হবে তাও ভোটারদের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বুঝিয়ে দেবেন তাঁরা। অবশেষে তাঁরা ফর্ম সংগ্রহেরও কাজ করবেন। আজ ৪ নভেম্বর থেকে এই কাজ শুরু হয়ে আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। একজন ভোটারের বাড়িতে বিএলও–রা সর্বাধিক তিনবার যাবেন। এনুমারেশন প্রক্রিয়ায় কোনও ভোটারকে কোনও নথি দেখাতে বা জমা দিতে হবে না।
অক্সফোর্ড লার্নাস ডিকশেনারি অনুযায়ী ইংরেজি শব্দ এনুমারেশন কথাটির বাংলা অর্থ হল শুমারি, গণনা বা পরপর উল্লেখ৷ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় এই এনুমারেশন প্রক্রিয়া সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। ভোটারের স্বাক্ষর করা এনুমারেশন ফর্ম জমা পড়লে, তবেই তাঁর নাম খসড়া ভোটার তালিকায় উঠবে৷ আজ, মঙ্গলবার থেকেই এই ফর্ম বিতরণের কাজ শুরু করবে বিএলওরা। গত ২৭ অক্টোবর রাজ্যে এসআইআর ঘোষণার পর ওই দিন মধ্যরাতে ২০২৫ সালের খসড়া ভোটার তালিকা ফ্রিজ করে দেয় জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এই তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে তাঁরা প্রত্যেকেই এনুমারেশন ফর্ম পাবেন। বিএলও একজন ভোটারকে দুটি করে এনুমারেশন ফর্ম দেবেন। সেই ফর্ম দুটির মধ্যে একটিতে সই করে বিএলও–কে ফিরিয়ে দিতে হবে। অন্য ফর্মটি ভোটার নিজের কাছে রাখবেন।
কোনও ভোটার বাড়িতে না থাকলে বাড়ির লেটার বক্সে বা দরজার নিচ বা জানালার ফাঁক দিয়ে এনুমারেশন ফর্মটি বাড়িতে দিয়ে যাবেন বিএলও৷ পরে সেই ভোটারের বাড়িতে গিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ বুঝিয়ে ফর্ম পূরণ করাতে হবে বিএলও–কে। কোনও ভোটারের বাড়িতে বিএলও প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বাধিক তিনবার যাবেন৷ তিনবারের মধ্যে একবারও যদি ভোটারের সঙ্গে তাঁর দেখা না হয় সেক্ষেত্রে অনলাইনে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করে জমা দেওয়ারও সুযোগ মিলবে৷ সেই ফর্মটি যাচাই করবেন বিএলও।
ভোটারদের যে দুটি এনুমারেশন ফর্ম দেওয়া হবে সেগুলি একেবারে ফাঁকা থাকবে না। ফর্মের কিছু অংশ আগে থেকেই ছাপানো অক্ষরে পূরণ করা থাকবে। যেমন, ভোটারের নাম, ভোটার কার্ডের এপিক নম্বর, ঠিকানা, ক্রমিক সংখ্যা, অংশ নম্বর ও নাম, বিধানসভা/লোকসভা এলাকা, রাজ্য, ভোটার কার্ডে থাকা পুরনো ছবি ইত্যাদি। ফর্মে একটি বক্স ফাঁকা থাকবে, সেখানে ভোটারকে নিজের বর্তমান রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগাতে হবে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি অংশ পূরণ করে একটি ফর্ম জমা দিতে হবে। আর একটি ফর্ম নিজের কাছে রাখবেন ভোটার। উল্লেখ্য, এনুমারেশন ফর্ম জমা করার সময় কোনও নথি দেখাতে বা জমা করতে হবে না৷ শুধুমাত্র খসড়া তালিকা প্রকাশের পর নোটিস জারি করা হলে গণনা ফর্মে উল্লিখিত ১১টি নথির যে কোনও একটি ভোটারকে জমা করতে হবে৷
Advertisement