সন্দীপ চক্রবর্তী
কলেজ স্ট্রিট যে অভিষেককে নিশি ডাকের মতো ডাকে, সেটা এদ্দিনে সুপর্ণা বুঝে গিয়েছে। বছরে একবারই তো আসে দেশে, মানে কোলকাতায়। ইকবাল ট্র্যাভেল এজেন্ট এদ্দিনে বেশ পরিচিত হয়ে গেছে। বেশ কয়েকবার ওর ওখান থেকেই গাড়ি নিয়ে, ঘুরে বেড়ানো হয়েছে এদিক সেদিক। সুপর্ণা তো গড়িয়াহাট আর কলেজ স্ট্রিট জংশনে দুটো ফেবারিট শাড়ির দোকানে যাবেই। তা যাক্ গে। তাই নিয়ে অভিষেকের কোনও চাপ নেই। কিন্তু একটা দিন অন্তত যে অভিষেককে কলেজ স্ট্রিটে বেশ কয়েক ঘন্টা চষতে দিতে হবেই, তা ওর আশে পাশের সবাই জানে। সুপর্ণাও অবাক হয়। প্রশ্ন করে—‘এইভাবে ফুটপাতে ঝুঁকে পড়ে, পথ চলতি লোকজনের ধাক্কা খেয়ে বইপত্র দেখায় যে বাপু কী আনন্দ পাও, তা ভগবান জানে।’ অভিষেক হাসে। বড় বড় দোকানে গিয়ে নতুন বই তো ও কেনেই। কিন্তু এই সব ফুটপাতে যে একেক সময় কী মহামূল্যবান মণিরত্ন পুরোনো বই ও পেয়েছে, তা বলবার নয়। এই বইগুলো বড় দোকানে পাওয়াও যায় না। বইপাগল মানুষটাকে অনন্ত সময় দিয়ে, সুপর্ণা শাড়ির দোকানে চলে যায়। সুপর্ণাও যথেষ্ট বই পড়ে। তবে অভিষেকের এই বই পাগলামি একদম বিরল প্রজাতির। প্লেনে, ট্রেনে, বাড়িতে, কিংবা অফিসে সময় পেলেই ও বই পড়বে। গীতা-কোরান-বাইবেল, মেসি থেকে কাশী, লর্ড শিভা থেকে শবাসন— কোনোটাতেই না নেই। তার উপর নিজের সাবজেক্টের বই তো আছেই। সুপর্ণার এক-এক দিন এই পাগলামি দেখে রাগই হয়। সাংসারিক কোনো ক্যাঁচালে হয়তো সুপর্ণা অনেক আগ্রহ নিয়ে অভিষেকের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে। আর অভিষেক এক মনে খবরের কাগজের খবরের মধ্যে ঢুকে পড়ে, প্রত্যুত্তরে শুধু হ্যাঁ আর হুঁ করে যাচ্ছে। বিরক্ত হয়ে ‘ধুত্তারিকা’ বলে সুপর্ণা উঠে চলে গেছে। বিরক্ত হয়ে বলেওছে যে বইগুলোকেই বিয়ে করলে পারতে। উত্তরে অভিষেক ঘাড় ঘুরিয়ে বলেছে, ‘তা কি হয় সোনামন! তাহলে যে বেশ সমস্যাতেই পড়ে যেতাম, তা আমি বেশ বুঝি।’
Advertisement
সে সব তো চলতেই থাকে। ঠিক যেভাবে কালীপুজোটা পেরোলেই, বাতাসে একটা শিরশির ভাব আসে। ফেসবুকে শুরু হয় শীতকাল নিয়ে বাঙালির নানা অনুভব। আর দেশ থেকে অনেক দূরে বসে, অভিষেক টের পায়, বাড়ি যাওয়ার সময় কাছে চলে এলো। কিন্তু আজকের এই এত্ত লম্বা মিছিলটা? গাড়ির এফএম অবশ্য শোনাচ্ছিল, কলেজ স্ট্রিটে বিকেল তিনটের সময় বিরাট মিছিল বেরোবে। কিন্তু নানা বই ঘাঁটতে ঘাঁটতে আর কেনার উৎসাহে, নজরই ছিল না সময়ের দিকে। এখন গাড়ির মধ্যে ওরা অনন্ত প্রতীক্ষায়। সেই প্রিয় রঙের পতাকা হাওয়ায় দোলাতে দোলাতে, দৃপ্ত ভঙ্গিতে এগিয়ে আসছে, শাসকের বিরুদ্ধে চিৎকারে ফেটে পড়া হাজার হাজার মানুষের মিছিল। আকাশ বাতাস স্পন্দিত সেই প্রিয় শ্লোগানে। প্রেসিডেন্সিতে পড়ার সময় সে কী উদ্দীপনা। কত রাত গড়িয়ে ভোরের মুখ দেখেছে, রক্তে ঢেউ তোলা কাহিনীগুলো শুনতে শুনতে। তখন যে শুধুই মনে হত, আগাপাশতলা পরিবর্তন করতে হবে এই পচে গলে যাওয়া সমাজের। এই সিস্টেমের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। গদিতে যেই আসুক না কেন, সেই তো উনিশ কিংবা বিশ। কত মিছিল, কত পদযাত্রা। পুলিশের চোখে চোখ রেখে, বিপ্লবের মন্ত্র শোনানো। স্বাভাবিকভাবেই প্রথম বছরের রেজাল্টটা একটু টাল খেয়েছিল। মফস্বল শহর থেকে বাবা দু’মাস পরপর দেখা করতে আসতেন। বাবা মানেই ছিল খোলা মাঠ, যেখানে খুশিমনে দৌড়ে যাওয়া যায় অনেক দূর বা শরতের নীল আকাশ, যেখানে উড়িয়েছে কতবার ওর চাঁদিয়াল ঘুড়িটা। বাবা সবই বুঝতে পারছিলেন। নিজেও পঁচিশ বছর আগে এখান থেকেই পাশ করে গেছেন। একই হস্টেল। তারপরে তো তার এক বিরাট সফর। সেদিন গড়ের মাঠে বাবা ছেলের ভালোবাসায় মাখামাখি নিবিড় আড্ডা। বাবা যুক্তি দিয়ে বুঝিয়েছিলেন, নিজের বক্তব্য জোরালোভাবে উপস্থাপন করার জন্য একটা প্ল্যাটফর্ম দরকার। সসম্মানে ডিগ্রি অর্জন করাটা হবে সেই প্ল্যাটফর্ম। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকে রাজ্য কাঁপানো অভিষেকের মনে কথাটা ধরেছিল। ও নিজেও ভয় পেয়েছিল, ভিড়ে হারিয়ে না যায়। আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তবে পড়াশোনার সময়টা বাড়িয়ে দিয়েছিল, অন্যান্য নানা দিকে সময় কাটছাঁট করে। ফাইনাল পরীক্ষার শেষের দিকে এসে, এই রাজনৈতিক মোহ কেটেছিল অভিষেকের। ওর সুচারু বুদ্ধিতে ধরা পড়ছিল, কথা ও কাজে নানান গরমিল। ফাইনাল পরীক্ষায় যথারীতি হৈচৈ মার্কা রেজাল্ট। ততদিনে কাছের বেশ কয়েকজনের সঙ্গে গড়ে উঠেছে অনতিক্রম্য দূরত্ব।
Advertisement
মিছিলের আওয়াজে হঠাৎ ভাবনায় ছেদ পড়লো। কত দূর চলে গেছিল, কোন পেছনে, ফেলে আসা দিনগুলোর কথা ভেবে। গাড়ির গা ঘেঁষে মিছিল যাচ্ছে। গাড়িটা থমকে আছে রাস্তায়, যেভাবে কয়েকদিন ধরে থমকে আছে শীতটা। আসবে আসবে করেও ঠিক আসছে না। আজ এই সময়ে বেশ গরমই লাগছে। মিছিল থেকে উৎসুক দৃষ্টি গাড়ির আরোহীদের প্রতি। প্রবাসী বাঙালি, প্রায় দশ বছর ধরে কানাডায় কাটানো জীবনে সুপর্ণা যেন দুধে আলতা গায়ের রঙের হয়ে উঠেছে। রোদে পুড়ে বড় হওয়া অভিষেকের গায়ের রঙ কালোর দিকেই বলতে হবে। ওর ডান হাতটা আলগোছে ড্রাইভারের মাথার পাশে রাখা। কানে আসছে মিছিলের প্রবল হুঙ্কার, ‘কালো হাত ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও। কালো হাত…’। ফ্ল্যাশ ব্যাক হচ্ছে ওর মনে। অনেক বছর আগে এই রাস্তা দিয়ে চলেছে ওদের স্পর্ধিত মিছিল। হাজারে হাজারে ছাত্র, যুবক, যুবতী, সাধারণ নাগরিক সেই মিছিলে পায়ে পা মিলিয়ে হাঁটছে। স্লোগানের ঢেউ ছিটকে পড়ছে উঁচু উঁচু বিল্ডিংয়ের দেওয়ালে, চারপাশের অসংখ্য দোকানের মানুষের মনে, আশেপাশের বাড়িগুলোর বারান্দায়, বেড রুমে, স্নান ঘরে। সেই ঢেউয়ে অনেকের চোখেই সপ্রশংস মুগ্ধ দৃষ্টি। উজ্জ্বল মেধাবী তরুণদের দাবি-দাওয়ার প্রতি সাধারণ নাগরিকদের একটা শ্রদ্ধামিশ্রিত কৌতূহল থাকেই। রাজনীতি যেভাবে কালো ধোঁয়ায় ঢাকছে দিন কে দিন, তাতে এই তরুণ তরুণীরা হচ্ছে নতুন বিশ্বাস, মুক্ত বাতাস। কিছু মানুষের বিরক্তি অবশ্য চোখে মুখে ফুটে উঠছিল। সেই দিনের সেই কেন্দ্রীয় নীতির বিরুদ্ধে ওদের ঐতিহাসিক মিছিলটা প্রথম থেকেই বেশ চড়া মেজাজের ছিল। যে আর্থিক নীতি কেন্দ্রীয় সরকার প্রণয়ন করতে চলেছে, তা যে সাধারণ মানুষের সর্বনাশ করতে চলেছে, তা যারা চোখ কান খোলা রেখে মাটিতে পা রেখে চলে, তাদের বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু নিয়ম যিনি আনছেন, তিনি যে হাওয়ায় ডানা মেলে উড়ে চলেন, তা অভিষেকরা বুঝতে পারছিল। তাই বিক্ষোভ ছিল মারমুখী মন্ত্রে গাঁথা। সাদা রঙের বিরাট সেডান গাড়িটা সেই দিন যখন ওদের মিছিলের মধ্যে ঢুকে পড়েছিল, কী বিচ্ছিরিভাবে গাড়িটা ভাঙচুর করা হয়েছিল। গাড়ির মালিক হাতে পায়ে ধরতে বাকি রেখেছিলেন।
হঠাৎ একটা হৈ-হৈ চিৎকার আসতেই, অভিষেকের মনের মধ্যে ছুটে চলা ভাবনার গাড়িটা থমকে দাঁড়ালো। ‘কী হলো গো’– জিজ্ঞেস করাতে ড্রাইভার রফিকুল জানালো, ‘মিছিল আটকে দিয়েছে স্যার। আগে থেকেই ওখানে প্রচুর পুলিশ তৈরি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মিছিলকে অন্য দিকে নিয়ে যেতে বলছে।’ কিছুক্ষণ থেমে থাকার পরে, খুব ধীরে ধীরে মিছিল চলতে শুরু করলো। হঠাৎ একটা প্রবল ধাক্কা যেন নাড়িয়ে দিল অভিষেকের ভেতরটাকে। সেই মুখ! আর হবি ত হ, একদম সোজাসুজি চোখে চোখ! কত বছর পরে আবার সেই দুই চোখের দিকে অভিষেকের একদৃষ্টে চেয়ে থাকা। হালকা খয়েরি রঙের শাড়ি পরে, মাথা উঁচিয়ে বিরাট মিছিলের এক অংশকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সেই মহিলা। মিছিল আবার থমকে গেছে। এগোতে পারছে না। নিশ্চয়ই সামনে আবার পুলিশের সঙ্গে ঝামেলা লেগেছে। এদ্দিন বাদে হঠাৎ এইভাবে এই পরিস্থিতিতে দেখা হয়ে যাওয়ার অভিঘাতে অঞ্জনাও কিন্তু চমকে গেছে। সেও তাকিয়ে আছে এই দিকেই। দিদির শ্লোগান হঠাৎ থেমে যাওয়াতে পাশের তরুণ ছেলেটি এবার লিড রোলের দায়িত্ব নিয়ে নিলো। দিদি হয়তো একটানা পথশ্রমে আর স্লোগানে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন— এটা ভেবে, মিছিলে হাঁটতে থাকা একটি অল্পবয়সী মেয়ে একটা জলের বোতল এগিয়ে দিল। এক ঢোঁক জল খেয়ে বোতলটা ফেরৎ দিয়ে, সেইএককালের হৃদস্পন্দন বাড়ানো দৃষ্টি, আবার ফিরে এলো পুরনো দিকেই, এদিকের হৃদস্পন্দন ফেলে আসা দিনের মতোই বাড়িয়ে দিতে। মিছিল এই মুহূর্তে থমকে আছে। থমকে গেছে সময় এই মুহূর্তে কলকাতার রাজপথে। আকাশ পরিষ্কার ঝকঝকে। তবুও ঝড় উঠেছে গোপন কোণে। কত স্মৃতি। পলাশ, শিমূলের রঙে রাঙানো আবেগঘন পথচলার কথাগুলো যেন সাইক্লোন হয়ে পেরে ফেলতে চাইছে, পঞ্চাশে পা দেওয়া, মহাকাশ বিজ্ঞানী, আদতে কবি মনের অধিকারী অভিষেককে। কী ভেবে তাকিয়ে দেখলো, সুপর্ণা সিটে মাথা হেলান দিয়ে চোখ বুজে পড়ে আছে। চট করে যে ওদের গাড়ি এগোবে না, তা ও বুঝে গেছে। অভিষেক রাস্তার দিকে তাকিয়ে দ্যাখে, হারিয়ে যাওয়া মানুষটা আবার এই দিকেই তাকিয়ে আছে। বর্ধমান কোর্টে যেদিন ফাইনাল রায় বেরোয়, তার পরে আজ আবার এই দেখা। কোনোভাবেই দুজনের কেউই যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেনি। যে বাঁধন নিজের থেকে ঘ্যাঁচ ঘ্যাঁচ করে কাঁচি দিয়ে কেটে ফেলা, সেই বাঁধনের তন্তুগুলোর রঙ মনে রেখে কী লাভ? শুধু শুধু মনকে কষ্ট দেওয়া। মাঝে কেটে গেল কত বছর। ফিজিক্সের অভিষেক আর ইংরেজির অঞ্জনা। দু’জনেই কলেজের সেরাদের মধ্যে অন্যতম। পৃথিবীকে নতুনভাবে সাজানোর স্বপ্নে দু’জনেই বিভোর। কলেজ ক্যান্টিনের বিকেলের আড্ডা, মতামত বিনিময়, একসঙ্গে হেঁটে যাওয়া বাসস্টপ অব্দি… মুহূর্তগুলো গেঁথে দিয়েছিল মনছোঁয়া এক মালা।
ঘনিষ্ঠতা যখন এমন পর্যায়ে পৌঁছলো যে, একে অপরকে ছেড়ে থাকা এককথায় অসম্ভব, তখনই অঞ্জনার জেদাজেদিতে, কয়েকজন বন্ধুর উপস্থিতিতে, দু’জনের রেজিস্ট্রি সেরে ফেলা। কলেজ শেষ করে তখন ইউনিভার্সিটিতে পা দেওয়ার সময়। বাড়ির লোকেদের পুরোপুরি অজ্ঞাতে সেরে ফেলা লাইসেন্স প্রাপ্তির কাজ, ঠেলে নিয়ে গেল সম্পর্কের আরো অতল গভীরে। যেখানে কেবলই উচ্চারিত হয় একটাই মন্ত্র— সমর্পণ। ছয় ঋতু ঘোরাফেরা করে বর্ধমান থেকে কলকাতা যাওয়ার রেলপথের দুই ধারে। সম্পর্কটাও বাঁধা পড়ে নানারকম অঙ্গীকারে। মাস্টার্স শেষ হওয়ার পরেই তাল কাটার শুরু। পাতা ঝরা শুরু হয়ে গেল সম্পর্কের ডালপালা থেকে। অভিষেক ততদিনে পেয়ে গেছে মার্কিন মুলুকের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করার এক আকর্ষণীয় সুযোগ। বহু সকাল, বিকেল, রাত কেটে গেল অনুনয় আবেদনে। একসঙ্গেই না হয় যাওয়া যাক। অঞ্জনারও যা অ্যাকাডেমিক রেকর্ড, কিছু না কিছু জুটেই যাবে। আর থাকা খাওয়ার তো অসুবিধে হবে না। অভিষেক তো ভালো ব্যবস্থাই পাচ্ছে। কিছুতেই কিছু হওয়ার নয়। একরোখা জেদের কাছে খড়কুটোর মত উড়ে গেল সম্পর্কের নানা রঙমাখা স্মৃতিগুলো। বাইরে সে যাবে না, সঙ্কটে পড়ে থাকা তার এই দলকে ছেড়ে। এখানেই সে ঠিক কাজ জুটিয়ে নেবে। আর এগিয়ে চলবে তার রাজনৈতিক আদর্শের দিকে। এই যখন অবস্থান, যা কোনোভাবেই বদলানোর নয়, তখন আর শুধু শুধু সম্পর্ককে আইন দিয়ে বেঁধে রাখা কেন। বর্ধমান কোর্টে সেই বাঁধনও ছিঁড়ে ফেলা হলো। অভিষেকের আজও মনে আছে, ওই পক্ষের উকিলবাবু অবাক হয়ে বলেছিলেন, দু’জনে যেভাবে তখন থেকে একটানা কথা বলে চলেছেন, মাঝে মাঝেই প্রাণখোলা হাসি হাসছেন, আপনারা সত্যিই বিচ্ছেদ চান তো? অঞ্জনা বলেছিল, অবশ্যই চাই। ওর খুব তাড়াতাড়ি বিদেশ চলে যাওয়া। নাহলে ওর অসুবিধা হয়ে যাবে। তারপরে আর তো যোগাযোগ নেই। অভিষেক বিয়ে করেছে। তার ছেলে এখন লন্ডন কিংস কলেজে ডাক্তারি পড়ছে।
মিছিল এগোতে শুরু করলো ধীরে ধীরে। অভিষেকদের গাড়িও এগিয়ে যাওয়ার সঙ্কেত পেয়ে গেছে। মিছিল থেকে আওয়াজ ভেসে আসছে, ‘কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’। হঠাৎ কেন যেন শিরশির করে উঠলো অভিষেকের ভেতরটা। ওরা কি এমন কাউকে টার্গেট করে বলতে চাইছে, যে বা যারা ওদের মিছিল ছেড়ে বেরিয়ে গেছে, নিজের আখের গুছিয়ে নেওয়ার জন্য। আস্তে আস্তে ও নামিয়ে নিল ড্রাইভারের মাথার পাশে সিটের ওপরে রাখা ওর হাতটা।
Advertisement



