• facebook
  • twitter
Thursday, 29 January, 2026

সুখমতিয়াদের সুখ–দুঃখ

সপ্তাহের এই একদিনই সুখমতিয়ারা সুখে ভাসে। সারা সপ্তাহের ধূলোমলিন জামা কাপড় চৈতাল ঘাটে, ঘটা করে মেয়ে মদ্দ, কামিনরা কেচে ধুয়ে ঝকঝকে করে।

কল্পচিত্র

অমর নন্দী

বিদ্যাধরীর গাঙে সমুদ্রের লোনা জলের জোয়ার এলে যেমন দু’কূল চলকে চলকে পড়ে, সুখমতিয়ার মনেও আজ তেমনি পুলক। হোলির আগে শেষ হপ্তা। খামারপাড়ার হাটে একটা জামাকাপড়ের দোকানে ও গত হাটে একটা শাড়ি দেখে এসেছে। ভারী সুন্দর। কাঁচা হলদে জমিনের ওপর লাল বড় বড় ফুল কাটা। সাতশো টাকা। ওর আড়াই রোজের দাম। ফুলমতিয়া কিছু পয়সা দেবে বলেছে। কিন্তু বাপটার কাছে কিছু চাওয়ার জো নেই। সারা হপ্তার খোরাকি যা পায়, সব নেশায় ওড়ায়।

Advertisement

সপ্তাহের এই একদিনই সুখমতিয়ারা সুখে ভাসে। সারা সপ্তাহের ধূলোমলিন জামা কাপড় চৈতাল ঘাটে, ঘটা করে মেয়ে মদ্দ, কামিনরা কেচে ধুয়ে ঝকঝকে করে। গা গতরে ভালো করে সাবান ঘসে। ঝামা খোয়ায় পায়ের গোড়ালি ভালো করে ঘসে পরিষ্কার করে। পরে চুলে তেল দিয়ে পাট পাট করে বেঁধে লাল ফিতের ফুল বানায়। মেয়েরা দুপুর গড়াতেই চোখে মুখে সস্তা প্রসাধনী মেখে বড় একটা থলি নিয়ে খামারপাড়ার হাটে যায়। নদীর গা ঘেঁষে কিছুদূর গিয়ে ডাইনে বড় বিল। তার আলা দিয়ে সোজা পথ চলে গেছে পাকা রাস্তা পর্যন্ত। পাকা রাস্তা পার করে ওপারে একটু এগোলেই খামারপাড়ার হেলা বটতলায় শনিবারের হাট। টাটকা আনাজপাতি, দেশি মুরগির ডিম, বিদ্যাধরীর জ্যান্ত মাছ। একধারে কামারের ছুরি কোদাল, বঁটি, কাস্তে, নিড়ানির দোকান। তার পাশেই বিকোচ্ছে মাটির হাঁড়ি, কলসি, সরা, ফুলের টব। ওদের মত ভাঁটার কুলি কামিনরা ছাড়াও পাশের চন্দনপুর, মালঞ্চ, বাবুরহাটের বাবুরাও ব্যাগ ভরে সওদা করে নিয়ে যায়।

Advertisement

সুখমতিয়ার সুখের কারণ শুধু খামারপাড়ার হাট নয়। রমেশও বটে। আজ বড় চিকনাই দিয়েছে রমেশ। জিন্সের প্যান্ট আর মালঞ্চ বাজার থেকে কেনা লাল রঙের ফুল হাতার গেঞ্জি। ওর পেশল হাত আর চেতানো বুকে খাপে খাপে এঁটে বসেছে। সুখমতিয়া ওকে আড় চোখে চেয়ে চেয়ে দেখে আর ওর কালো মুখটায় বুকের সব রক্ত কেমন ঝিলিক দিয়ে ওঠে।


রমেশ বড় বিলের আলা দিয়ে যেতে যেতে ওর হাতটা ধরে হ্যাঁচকা একটা টান দিয়ে কাছে আনে। সুখমতিয়া অপ্রস্তুত হয়ে বলে, ‘এই শরম লাই? পিছে বুড়হা দাদা।’ রমেশ ওর কাথায় পাত্তা না দিয়ে বলে, ‘ও হরদি শাড়ি ম্যায় খরিদ দুঙ্গা, বাপ কো না কবি। উ তো দারু পিয়ে পেইসা সব উরাহাই দিলা।’ সুখমতিয়ার বাপের বদনামে বুকে একটু খোঁচা লাগে। ও অভিমানে বাকি পথ রমেশের হাতটা ছাড়িয়ে একটু আগে আগে চলতে থাকে। বড় বিলের আলার শেষে পাকা রাস্তা পেরিয়ে ওরা সবে খামারপাড়ার হাটে ঢুকছে। হাট সকাল থেকে লেগে যায়। বেশিরভাগ হাটুরে বিদ্যাধরীর দু’পাশে ইটভাঁটার ঝাড়খণ্ডী আর বিহারি যত কুলি কামিনরা। সারা সপ্তাহ উদয়স্ত মাথার ঘাম পায়ে ঝরায়। বাচ্চা কাচ্চাদেরও কোনো হালহদিস থাকে না। ওদের ইট কাটার সময়, কেটে গাছি দেবার সময়, বয়ে ভাঁটায় লাট দেবার সময় কামিনরা ছোট্ট বাচ্চাদের গামছা দিয়ে কাঁখে-পিঠে বেঁধে কাজ করে। বড়গুলো ধুলো মাটি মেখে মাটিতেই গড়াগড়ি খায়। তখন মেয়ে-মদ্দদের কোনোদিকে তাকানোর জো থাকে না। সন্ধ্যায় মুন্সির কাছে গাছি থেকে ভাঁটায় তোলার সময় কাজ হিসেবে টিকিটের হিসেব বুঝে নেয়। সুখমতিয়ার কিছুটা অভিমান ভেঙেছে। রমেশ ওকে বুঝিয়ে বলেছে, ও যেন সব পয়সা বাপটাকে না দেয়। সামনে বিয়া। কিছু তো নিজের কাছে রাখতে হবে। ও কথায় কথায় রমেশের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে বিদ্যাধরীর চরের টাটকা পালং, কড়াই, কুমড়ো, লাউ থলেতে ভরে। হোলিতে জবাই করবে বলে, বাপটা দুশো টাকা হাতে ধরিয়ে বলেছিল ‘বাজার সে দেশি সাড়া মোরগা লানবি।’ সুখমতিয়া ভেবে রেখেছে ফেরার সময় দক্ষিণ দিকে মুরগির হাট থেকে মোরগাটা কিনে ফিরবে। আর মা বলেছে একটা হাড়িয়া বানানোর মাটির হাড়িও লাগবে বটে।

সব কেনাকাটার শেষে রমেশ তেলেভাজার দোকান থেকে এক ঠোঙা ফুলুরি আর আলুর চপ নিয়ে সুখমতিয়ার দিকে এগিয়ে দেয়। ও খেতে খেতে ভাবে আর তো মাত্র ক’টা মাস। এই শ্রাবণে গাঁয়ে ফিরে বিয়েটা সেরে নেবে। রূপালি ভাঁটার সব মেয়ে-মদ্দ, কুলি-কামিন, মুন্সি, ম্যানেজারবাবুরা সবাই জানে রমেশ আর সুখমতিয়ার গল্প। কচি লাউডগার মত লকলক করে বেড়েছে এ কয় বছরে। কালো পাথরের তৈরি মূর্তির মত ধারালো কাটাকাটা চেহারা। ভাঁটার সব জোয়ান মদ্দ থেকে শুরু করে বাবুদের চাহনি সব পড়তে পারে সদ্য আঠারো পেরনো সুখমতিয়া। মুন্সি হাত ধরে টেনে একবার খারাপ কথা বলেছে।


ফায়ার মিস্তিরি ইউপি-র সুখদেও সিং লোকটাও সুবিধের নয়। এইবার শীতের মধ্যে একদিন ইটের লাট দিতে দিতে সন্ধে হয়ে গেছিল। মুহুরীর ঢাকনা খুলে ভাঁটার গনগনে আগুনে গুঁড়ো কয়লা ঢালতে ঢালতে সুখমতিয়াকে দেখে উপর থেকে নেমে এসে বলেছিল ‘চল মতিয়া, ও মোটর ঘর থোড়া তুমকো দেখা দুঁ। অন্দর মে মস্ত গরমী হ্যয়।’ ওর কথা শুনে কোনোরকমে ইটের বোঝা মাথা থেকে নামিয়ে লাট দিয়ে প্রায় ছুটেই পালিয়ে এসেছিল। এসব কোনো কথাই রমেশের কানে তোলেনি। নয়তো একটা কিচাইন হয়ে যেত। মেয়ে যত বড় হয়, ফুলমতিয়ার চিন্তা তত বাড়ে। কাজের পর ওদের ছোট্ট খুপরির বাইরে উনুনে লকড়ি জ্বালিয়ে রাতের ভাত ফোটায় আর ভাবে। মরদটা আস্ত একটা জানোয়ার। রাত হলেই দারু খেয়ে বেহুঁস।

তেলেভাজার পর আয়েস করে চা খেয়ে রমেশ একটা গোল্ডফ্লেক ধরায়। এমনিতে ও খৈনি খায়। আর মাঝে সাঝে একটু দারু। সিগারেটে একটা লম্বা সুখটান দিয়ে হাটের পাশে কাপড়ের দোকানটার দিকে এগিয়ে যায় ওরা। একটু ভিড় ঠেলে দোকানের ভেতরে ঢোকে। সুখমতিয়ার চোখটা ঘুরতে থাকে দোকানের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। কোণার কাচের শোকেসের মধ্যে শাড়িটা সাজানো ছিল। ‘উ জো হরদি শাড়ি, লালওয়ালা ফুল’— দোকানদারকে বলতেই, আধবুড়ো ধুতিপরা লোকটা মাথা চুলকে বলল ‘আরে ও তো দু-পিস ছিল। দেখছি দাঁড়া। লাক ভাল হলে পেয়ে যাবি।’ আলমারির থেকে একটা কাপড়ের বান্ডিল খুলে মিলে গেল ওই হলদে শাড়ি। সারা গায়ে বড় বড় লাল ফুল। সুখমতিয়ার চোখটা চক চক করে ওঠে। দোকানি ভাঁজ করে শাড়ির প্যাকেটটা এগিয়ে দেয়। রমেশ হিপ পকেট থেকে কড়কড়ে পাঁচশো টাকার দুটো নোট বের করে দোকানদারকে দিতে দিতে আড় চোখে হেব্বি রেলা নিয়ে একবার সুখমতিয়াকে দেখে। ভাবটা এরকম, দেখলি তোর মরদের কথার দাম। কাপড়টা প্যাকেট থেকে বের করে সুখমতিয়া দুহাতে মুখের কাছে এনে লম্বা শ্বাস নিয়ে নতুন কাপড়ের গন্ধ নেয়। গায় ফেলে একবার দেখে নেয়। রমেশ সে দিকে তাকিয়ে বলে ‘তোকে বড়িয়া লাগোথে। চ জলদি চ, মোরগা লিবি না?’ কাপড়ের চক্করে ও সত্যি মোরগার কথাটা এক্কেবারে ভুলে গেছিল। ওরা দোকান থেকে বেরিয়ে দক্ষিণে মুরগির হাটের দিকে দ্রুত পা বাড়ায়।


মার্চের মাঝামাঝি নাগাদ হরি সিং কালেকশানে আসে। চৈতাল, মালঞ্চ, চন্দনপুরের পাঁচ-ছয়টা ইটভাটায় লেবার সাপ্লাই করে। হরির বেশিরভাগ লেবার রাঁচি, নওয়াদা, নার্দিগঞ্জের। ট্রাইবালরাই ওর ব্যবসার মূল মূলধন। প্রায় হাজারখানেক কুলি-কামিনকে অফসিজিনে দাদন দিয়ে বায়না করে রাখতে হয়। মেয়ে-মদ্দকে জোড়ায় জোড়ায় পেমেন্ট দেয়। মাথা পিছু পাঁচ হাজার। অফসিজিনে দেশে ধান, গেঁহু, সবজিখেতে সামান্য চাষবাস ছাড়া কিছুই থাকে না। তখন এই টাকা ওদের হাতে স্বর্গ। তাই হরি সিংরা তাদের দেবতা। হরিবাবু কালেকশানে এলে বরাবর এই রূপালি ভাঁটায় ওঠে। এখানের মালিক মান্নান ভাই তাঁকে আলাদা খাতিরদারি করে। হরি দু’একদিন গেস্টহাউসে থেকে কালেকশান করে বেরিয়ে যায়। এবার এসেছে ঠিক হোলির আগে। আজ হোলির প্রথম দিন। গতবার এ সময় দেশে ছিল সুখমতিয়ারা। কত কত চাল, ডাল, সবজি, মোরগা পড়ে মারাংবুরুর থানে। শালের ফুলে ফুলে ভরে যায় জঙ্গল। নেশা ধরে গন্ধে। মারাংবুরুর পূজার শেষে ধামসা বাজে নাচের তালে তালে। জল ছিটিয়ে, কাদা ছুড়ে খেলা শুরু হয়। মহুয়ায় বাখর মিশিয়ে নেশা চড়ায় পুরুষেরা। ওখানে এমন রঙ কোথায়? ও ভাবে বিয়ের পর আর ভাঁটায় ফিরবে না। দু’জনে গতরে খাটবে পঞ্চানন্দের চরে। শালপাতার দোনা বানিয়ে নার্দিগঞ্জের হাটে বেচবে। ওর সুখের ভাবনায় ছেদ পড়ে রমেশের ডাকে। রমেশ আসলে ডাকেনি। এমনিই ও এক রাতচরা পাখির ডাকে চমকে ওঠে। চৈতাল ব্রীজের ওপর থেকে ফাগুন পূর্ণিমার মস্ত হলুদ চাঁদটা গোলাবাড়ির ভাঁটার চিমনির ঠিক ওপরে বড় এয়োতির টিপের মত জ্বলজ্বল করছে। বিদ্যাধরীর জলে কেউ যেন সোনা গুলে দিয়েছে। আজ ওই হলুদ শাড়িটায় সুখমতিয়াকে খুব মানিয়েছে। রমেশ হাতের কর গোনে, শ্রাবণ মাস আসতে আর কত দিন বাকি।

সুখমতিয়া তাড়া দেয়,‘জলদি চ, মাই বুলাথে। মোরগা রিন্ধনা লাগে।’ চৈতালের ব্রিজ থেকে ঘরে ফিরে দেখে, ফুলমতিয়া ওর অপেক্ষা না করে ডেচকিতে মুরগির মাংস তেল মশলা মাখিয়ে রেখেছে। মেয়েকে আসতে দেখেই একটা গালাগাল দিয়ে বলে ‘কোথা রহিস মাইয়া, ইতনা দেরী? কাম নাই?’ ভয়ে ভয়ে ও মাকে সরিয়ে কাঠের খোলা উনুনটায় অল্পঅল্প করে লকড়ি গুঁজে দিয়ে মনোযোগ দিয়ে মাংস কষাতে থাকে।


একটু দূরে বট গাছের চাতালে বসে যত মদ্দরা সব নেশা করে যাচ্ছে। সুখমতিয়ার বাপটাও রয়েছে। হরি সিং দু’দিন ধরে ভাঁটার অফিসের দোতলায় গেস্ট রুমে আছে। মালঞ্চ বাজার থেকে এসেছে বিলিতি বোতল। মালিক মান্নান সাহেব নামাজী মানুষ। ওসব ছোঁন না। কিন্তু মেহমানের তদারকির কোনো ত্রুটি রাখেন না। এ তল্লাটে সব কুলি-কামিন তারই সাপ্লাই। মান্নানের ব্যবসাপত্তর অনেকটাই তার ওপর নির্ভর। তাই একটু আলাদা খাতিরদারি আর কি! দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পরই সুখমতিয়া হাট থেকে কেনা নতুন হলুদ শাড়িটা পরেছিল।

আজ হরি সিংকে কষা মাংস আর রুটি করে খাওয়ানোর দায়িত্ব সুখমতিয়ার। রান্নার পর গরম মাংস, রুটি, লঙ্কা পেঁয়াজ ঝকঝকে স্টিলের থালায় সাজিয়ে, আঁচলটা কোমরে কষে বেঁধে হরিবাবুর গেস্টহাউসের ঘরে টোকা মারে সুখমতিয়া, ‘বাবু।’ মান্নান সাহেবের সঙ্গে হরি সিং খোসগল্পে ব্যস্ত। হরি সিং একটানে গ্লাসে শেষ চুমুক দিয়ে টেবিলে রেখে সুখমতিয়াকে দেখে ভেতরে ডাকে ‘অন্দর আও, অন্দর আও। শুনা হ্যায়, তু বহুত আচ্ছা খানা বানাতি হ্যায়।’ তখনই মান্নান সাহেব উঠে দাঁড়িয়ে বলে ‘চলি। আপনি এখন খানা খেয়ে রেস্ট করুন, কাল সকালে নাস্তাপানির পর দেখা হবে।’ মান্নান সাহেব দরজা ভেজিয়ে বেরিয়ে যান। সুখমতিয়া একমনে জগ থেকে গ্লাসে জল ঢেলে টেবিলে রাখতে গিয়ে পিঠে আলতো ছোঁয়ায় চমকে ওঠে। হরি সিংয়ের হাত। ক্রমশ আলতো ছোঁয়াটা আষ্টেপৃষ্টে চেপে বসছে সারা দেহে। চেঁচাতে যায় মতিয়া। হরি সিং বিচ্ছিরি হেসে বলে ‘চিল্লা মত। যব তু মুসকুরাতি হ্যায়, বহুত খুব লাগতি হ্যায় মতিয়া। আজ ম্যায়নে খুদ দেখা। তেরি বারে মে ভি বহত শুনা হুঁ।’ পাইথন যেমন নিরীহ শিকারকে ক্রমশ নিস্তেজ করে আনে, তেমনি সুখমতিয়ার শরীরটা ধীরে ধীরে অবশ হয়ে আসছে। সব কিছু কেমন আবছা। হরি সিং ওর মুখের খুব কাছে মুখটা নামিয়ে বলে, ‘তেরে বাপ কো দুগুনা দাদন অ্যাডভান্স দে দিয়া, আজ সুভা, সামঝি? পুরা দশ হাজার।’

এখনো ভোর হয়নি ভাল করে। মন্টু মিঞার মেজাজটা আজ খারাপ। জাল গোটাতে গোটাতে নিজের ভাগ্যকেই দোষারোপ করে, বিড়বিড় করে। ডিঙির দাঁড় বাইতে বাইতে নাজিরের চোখ আটকে গেলো বক চোরার চরে। মন্টুকে ইশারায় দেখায় নাজির। চরের ওপর কী একটা পড়ে আছে না?


ডিঙি ঘুরিয়ে চরের কাছে আনে নাজির। হ্যাঁ, ঠিকই ঠাওর করেছে। এতো একটা মেয়ে মানুষের লাশ! গায় হলদে শাড়ি। তাতে মাঝে লাল লাল ফুল কাটা।

Advertisement