• facebook
  • twitter
Friday, 16 January, 2026

চামোলিতে মেঘভাঙা বৃষ্টি, নন্দন নগরে নিখোঁজ ১০, উদ্ধারে সেনা-পুলিশ

উদ্ধারকাজে এসডিআরএফ, এনডিআরএফ, পুলিশ ও জনপথ দপ্তরের কর্মীরা একসঙ্গে কাজ করছেন। ভারী যন্ত্র, জেসিবি মেশিন এনে ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা চলছে।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার নন্দন নগরে ভয়াবহ মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ধস নেমে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই আহতের সংখ্যা ১৪ জন ছাড়িয়ে গিয়েছে। নিখোঁজের সংখ্যা ২০ জনের বেশি। বদ্রীনাথ জাতীয় সড়কের উপর ধস নেমে রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২০০জন ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার ভোররাতে প্রবল ভূমিধস ও বন্যায় কুনতারি লাগাফালি, কুনতারি লাগাসরপানি, সেরা এবং ধুরমা গ্রামে ভয়ঙ্কর ক্ষয়ক্ষতি হয়। এইসব এলাকায় কাদা ও পাথরের স্রোত নেমে আসে। মুহূর্তে ভেসে যায় একাধিক বাড়িঘর। ৩০টিরও বেশি বাড়ি, একাধিক দোকান এবং গোয়ালঘর মাটির তলায় চাপা পড়ে গিয়েছে। কুনতাড়ি লাগাফালি থেকে নিখোঁজ হয়েছেন কুনওয়ার সিং (৪২), তাঁর স্ত্রী কান্তা দেবী (৩৮), দুই সন্তান বিকাশ ও বিশাল (১০), প্রবীণ মহিলা দেবেশ্বরী দেবী (৬৫), ভাগা দেবী (৬৫), জগদম্বা প্রসাদ (৭০) এবং নরেন্দ্র সিং (৪০)। আবার ধুরমা গ্রাম থেকে নিখোঁজ হয়েছেন গুমান সিং (৭৫) ও মমতা দেবী (৩৮)।

Advertisement

চামোলির এই ভয়াবহ মেঘভাঙা বৃষ্টিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সমগ্র গাঢ়ওয়াল অঞ্চলে। নিখোঁজদের পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁরা যত দ্রুত সম্ভব প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার আশায় রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী জানিয়েছেন, তিনি প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কাজ নিয়ে নিজে সরাসরি তদারকি করছেন।

Advertisement

প্রশাসন জানিয়েছে, দুই জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। তবে টানা বৃষ্টির জেরে অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও উদ্ধারের কাজ চলছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আরও কয়েকজন গ্রামবাসী বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন।

উদ্ধারকাজে এসডিআরএফ, এনডিআরএফ, পুলিশ ও জনপথ দপ্তরের কর্মীরা একসঙ্গে কাজ করছেন। ভারী যন্ত্র, জেসিবি মেশিন এনে ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে তিনটি অ্যাম্বুল্যান্স ও চিকিৎসক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া দপ্তর চামোলি জেলায় আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। সেজন্য স্থানীয়দের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কা রয়ে গিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী ধামী সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘এই দুঃসময়ে আমি সবার সুরক্ষার জন্য প্রার্থনা করছি। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং উদ্ধারকারীরা প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।’

উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসেই নন্দননগরে ভূমিধসের কারণে একাধিক বাড়িঘরের দেওয়ালে ফাটল দেখা যায়। সেসময় গ্রামবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু নতুন করে সেখানে ধস নামায় আতঙ্ক আরও বাড়ল। গত দু’দিন আগে দেরাদুন এবং সংলগ্ন অঞ্চলে মেঘভাঙা বৃষ্টি ও ধসের জেরে ২১ জনের মৃত্যু হয়, নিখোঁজ হন ১৭ জন। তার পরেই চামোলির এই বিপর্যয় রাজ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তুলল।

Advertisement