• facebook
  • twitter
Thursday, 15 January, 2026

বিয়ের জন্য চাপ দিতেই পলাতক তরুণী, ১৩ দিন ‘অজ্ঞাতবাসে’ আইনজীবী অর্চনা

প্রতিটি জায়গায় টিভিতে তাঁর নিখোঁজের খবর দেখে আতঙ্ক বেড়ে যায় অর্চনার মধ্যে। এই বুঝি পুলিশ তাঁকে ধরে ফেলল। তাই বেশিদিন কোথাও লুকিয়ে থাকতে পারেননি।

অর্চনা তেওয়ারি।

বিয়ের জন্য বাড়ি থেকে চাপ দিতেই পলাতক আইনজীবী তরুণী। সেজন্য রাখিবন্ধনের আগেই নর্মদা এক্সপ্রেস থেকে হঠাৎ উধাও হয়েছিলেন মধ্যপ্রদেশের কাটনির ২৮ বছরের তরুণী অর্চনা তেওয়ারি। ভবিষ্যতে দায়রা বিচারক হওয়ার স্বপ্নে মশগুল এই আইনজীবীর খোঁজ না মেলায় পরিবার ও পুলিশের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে। রীতিমতো দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন তাঁরা। অবশেষে ১৩ দিন পর মিলল তাঁর খোঁজ—উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরি জেলায়, নেপাল সীমান্তের একেবারে কাছাকাছি।

জানা গিয়েছে, গত ৭ আগস্ট ইন্দোর থেকে নর্মদা এক্সপ্রেসে চেপেছিলেন অর্চনা। কাটনিতে নামার কথা থাকলেও ভোপালের রানি কমলাপতি স্টেশনের পর থেকে তাঁর আর খোঁজ মেলেনি। তাঁর ফোন ছিল বন্ধ। ট্রেনে পড়ে ছিল তাঁর ব্যাগ, খেলনা, রাখির সামগ্রী ও জামাকাপড়। সহযাত্রীরা জানান, বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে সিট থেকে উঠেছিলেন তিনি। এরপর তাঁকে স্টেশনে নামতেও দেখা যায়। সেখান থেকেই বাড়ে রহস্য!

Advertisement

পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, অর্চনার পরিবার তাঁর বিয়ে ঠিক করেছিল এক পাটোয়ারি যুবকের সঙ্গে। কিন্তু অর্চনা চান পড়াশোনা চালিয়ে যেতে। এই জোরাজুরিতেই অশান্তি বাড়ছিল। ইতিমধ্যেই ইন্দোরে থাকাকালীন সারাংশ নামে এক যুবকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে তাঁর। অভিযোগ, সারাংশ ও অর্চনা মিলে গাড়িচালক তেজিন্দরের সাহায্যে পালানোর পরিকল্পনা করেন।

Advertisement

সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাগ ও মোবাইল তেজিন্দরের হাতে দিয়ে অর্চনা গায়েব হয়ে যান, যাতে পুলিশ বিভ্রান্ত হয়। এরপর সিসিটিভি বা টোল ট্যাক্সবিহীন রাস্তা ধরে পালিয়ে যান বুরহানপুর, হায়দরাবাদ, যোধপুর, দিল্লি হয়ে নেপালের দিকে। একজন আইনজীবী হিসেবে অর্চনা তদন্তের ফাঁকফোকর ভাল করেই জানতেন। তাই আত্মগোপন করার সময় পুরনো মোবাইল বা সিম নম্বর একেবারেই ব্যবহার করেননি। এমনকি গাড়ির পিছনের সিটে শুয়ে পালিয়েছেন, যাতে কোথাও সিসিটিভিতে তিনি ধরা না পড়েন।

তবে প্রতিটি জায়গায় টিভিতে তাঁর নিখোঁজের খবর দেখে আতঙ্ক বেড়ে যায় অর্চনার মধ্যে। এই বুঝি পুলিশ তাঁকে ধরে ফেলল। তাই বেশিদিন কোথাও লুকিয়ে থাকতে পারেননি। নেপালে পৌঁছনোর পর সারাংশ তাঁকে ছেড়ে চলে যান শুজালপুরে। এরপরই একা হয়ে পড়েন অর্চনা। অবশেষে নিজেই বাড়িতে ফোন করে জানান, তিনি ভাল আছেন এবং লখিমপুর খেরিতে রয়েছেন। এর পরেই পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে।

Advertisement