দ্বিতীয় দফার ভোটেও অশান্ত পাক অধিকৃত কাশ্মীর

PIC-X

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আবারও উত্তেজনা। রবিবার দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের দিনেও বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনা ঘটল। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ছবি দেখা গিয়েছে। গাড়ি পুড়েছে, ছড়িয়ে রয়েছে পাথর— অশান্তির নানা ছবি দেখা গিয়েছে মুজফ্‌ফরবাদের রাস্তায়।

ভোটপর্বে বারবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পাক অধিকৃত কাশ্মীর। পাকিস্তানি সেনার সহায়তায় ভোটে কারচুপি করারও অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক দলগুলির একাংশ নির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়েছে। প্রায় দুই মাস ধরে পিওকে-র বিভিন্ন দিকে বিক্ষোভ দেখা গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে পিওকে। নিরাপত্তাবাহিনীর কঠোর দমনপীড়নের অভিযোগও উঠেছে।

নিজেদের অধিকারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে অধিকৃত কাশ্মীরের নাগরিক সমাজ। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে উত্তপ্ত পাক-অধিকৃত কাশ্মীর। অর্থনৈতিক সঙ্কট, সাধারণ নাগরিকদের প্রতি বঞ্চনা, একের পর এক বিধিনিষেধ চাপানোর জেরে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল। তার উপরে স্থানীয় প্রশাসনের ব্যর্থতা এই বিক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এরই মধ্যে ভোট শুরু হয়েছে অধিকৃত কাশ্মীরের। প্রসঙ্গত, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আইনসভায় ৪৫টি আসনের নির্বাচন ২৭ জুলাই থেকে ১০ অগস্ট পর্যন্ত তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২৭ জুলাই প্রথম দফায় ১৩টি আসনে ভোট হয়েছিল। রবিবার দ্বিতীয় পর্বের ভোটগ্রহণ। দ্বিতীয় দফার ভোটেও অশান্তি পিছু ছাড়ল না।


চলতি উত্তেজনায় বাড়তি সংযোজন জম্মু ও কাশ্মীর থেকে স্থানান্তরিত সংরক্ষিত ১২টি আসন। সেই আসনগুলিই এখন পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সংগঠনের যৌথমঞ্চ, জেএএসি ওই ১২টি সংরক্ষিত আসন তুলে দেওয়ার দাবি তুলেছে। পাক সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন। সেই আবহে সুষ্ঠু ভাবে ভোটপ্রক্রিয়া পরিচালনা করাই চ্যালেঞ্জ সে দেশের সরকারের কাছে। ভোট পরিচালনায় নিরাপত্তাবাহিনীর অতিসক্রিয়তার অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের মনে অসন্তোষকে বাড়িয়ে তুলেছে।

গত সপ্তাহে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে অন্তত ২০ জন প্রতিবাদী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার রাওয়ালকোট থেকে মুজ়ফ্‌ফরাবাদের দিকে মিছিল করে প্রতিবাদী নাগরিক সংগঠন ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’। অভিযোগ সেই মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালানো হয়।