৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতকে শুভেচ্ছা বার্তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের

সোমবার ভারত ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদ্‌যাপন করার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের তরফে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের বার্তা আসতে থাকে। এই শুভেচ্ছাবার্তাগুলি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং দৃঢ় কূটনৈতিক সম্পর্কেরই প্রতিফলন।

ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ প্রথমবার প্রত্যক্ষ করে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক চেতনাকে উদ্‌যাপন করা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে তিনি গর্বিত। কুচকাওয়াজে মার্কিন প্রযুক্তিতে তৈরি বিমান আকাশে উড়তে দেখে তিনি বিশেষভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং একে ভারত-মার্কিন কৌশলগত অংশীদারিত্বের শক্তিশালী প্রতীক বলে উল্লেখ করেন।

জাপানের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ওনো কেইইচি ভারতবাসীকে প্রজাতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এই দিনটি ভারতের সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির স্মারক। তিনি জানান, ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে আমন্ত্রণ পেয়ে তিনি উৎসবের অংশ হতে আগ্রহী।


ভারতে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাই কমিশনার ফিলিপ গ্রিনও প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ২৬ জানুয়ারি দিনটি অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের জন্য বিশেষ, কারণ এই দিনটি অস্ট্রেলিয়া দিবস এবং ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস—উভয়ই। একটি ভিডিও বার্তায় অস্ট্রেলিয়ান মিশনের কর্মকর্তারা হিন্দি, বাংলা ও মারাঠিসহ বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় শুভেচ্ছা জানান, যা ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে।

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রকও ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারত সরকার ও জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানায়। বার্তায় দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ভারতের উত্তরোত্তর অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

ভারতে ফিনল্যান্ড দূতাবাসও একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রজাতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা জানায়। দূতাবাসের কর্মকর্তারা ভারতের জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা ও সৌহার্দ্যের বার্তা তুলে ধরেন এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারতের সংবিধান কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশটি একটি সার্বভৌম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। প্রজাতন্ত্র দিবস সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের স্মরণ করিয়ে দেয় এবং সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত ন্যায়, স্বাধীনতা, সমতা ও ভ্রাতৃত্বের মূল্যবোধকে পুনরায় দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করে।