উত্তর মেরু অঞ্চলকে ঘিরে এবার কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের বার্তা দিতে গিয়ে বিতর্কে জড়াল মার্কিন প্রশাসন। আমেরিকার প্রশাসনিক দপ্তর হোয়াইট হাউস সামাজিক মাধ্যমে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি ছবি প্রকাশ করতেই বিশ্বজুড়ে হৈচৈ শুরু হয়েছে। বেড়েছে আলোচনা, সমালোচনা ও বিদ্রুপ। ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, বরফে ঢাকা গ্রিনল্যান্ডের প্রেক্ষাপটে এক মার্কিন নেতাকে হাঁটতে দেখা যায়, যার পাশে একটি পেঙ্গুইন মার্কিন পতাকা হাতে নিয়ে এগিয়ে চলেছে। ছবির সঙ্গে লেখা বার্তা— ‘পেঙ্গুইনের সঙ্গে এগিয়ে চলো’।
এই ছবি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। অনেকে এটিকে কৌশলগত রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখলেও, বড় অংশের মানুষের প্রতিক্রিয়া ছিল সমালোচনা মুখর। কারণ ভৌগোলিক প্রকৃতির জন্য পেঙ্গুইনের বসবাস দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে। গ্রিনল্যান্ড বা উত্তর মেরু এলাকায় পেঙ্গুইনের অস্তিত্ব নেই। এই মৌলিক বাস্তবতার সঙ্গে ছবির অসঙ্গতি নিয়েই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি চিত্র মূলত প্রতীকী বার্তা দেওয়ার কৌশল। গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে আমেরিকার দীর্ঘদিনের কৌশলগত আগ্রহ রয়েছে। খনিজ সম্পদ, সামরিক অবস্থান এবং ভৌগোলিক গুরুত্বের কারণে অঞ্চলটিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বারবার টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে এমন একটি চিত্র প্রকাশ করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
তবে তথ্যগত ভুলের কারণে বার্তাটির উল্টো প্রভাব ফেলেছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। সামাজিক মাধ্যমে বহু মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন, রাষ্ট্রীয় স্তরের একটি প্রশাসনিক দপ্তর কীভাবে এমন একটি চিত্র প্রকাশ করতে পারে, যেখানে প্রাথমিক ভৌগোলিক সত্যের সঙ্গেই গরমিল রয়েছে। কেউ কেউ একে ‘ডিজিটাল প্রতীকী রাজনীতি’ বলেও কটাক্ষ করেছেন। আবার অনেকে এটিকে শিশুসুলভ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রচার বলেও আক্রমণ করেছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা–নির্ভর চিত্র ও বার্তা ভবিষ্যতের রাজনীতিতে নতুন প্রবণতা তৈরি করছে। কিন্তু বাস্তব তথ্য, ভৌগোলিক জ্ঞান ও সামাজিক সংবেদনশীলতার সঙ্গে যদি সেই বার্তা না মেলে, তবে তা বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়। গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে কৌশলগত বার্তা দিতে গিয়ে এই ছবিটি এখন বিশ্ব রাজনীতিতে আলোচনা নয়, বরং ব্যঙ্গ ও সমালোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনা শুধু একটি ছবি প্রকাশের বিতর্ক নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা–নির্ভর রাজনৈতিক প্রচারের ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তথ্যের নির্ভুল, প্রতীকী বার্তার দায়িত্ববোধ এবং রাষ্ট্রীয় স্তরের যোগাযোগ নীতির বিশ্বাসযোগ্যতা— সবকিছু মিলিয়েই এই বিতর্ক আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।