পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে ভারতের জন্য রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের বিশেষ ছাড় ঘোষণা করল আমেরিকা। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে যেমন বিতর্ক শুরু হয়েছে, তেমনই মার্কিন সংসদের একাংশ থেকেও তীব্র সমালোচনা শোনা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের তেল সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতেই এই সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ক্যারোলিন লিভিট বলেন, ‘ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করেছিল। কিন্তু ইরানের হুমকির কারণে বিশ্বে তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে ভারতকে সাময়িকভাবে রাশিয়া থেকে তেল কিনতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’
রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতের জন্য এই বিশেষ ছাড়ের খবর প্রকাশ্যে আসতেই আমেরিকার রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার তেলের বাজার সীমিত করার জন্য মার্কিন প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই কড়া অবস্থান নিয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য বিশেষ ছাড়ের সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
সমালোচনার মুখে পড়ে মার্কিন প্রশাসন পরে ব্যাখ্যা দিয়ে জানায়, এটি কোনও স্থায়ী অনুমতি নয়। বরং ভারতের জ্বালানি চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সৃষ্ট সঙ্কট সাময়িকভাবে সামলানোর জন্য ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে সমুদ্রপথে আটকে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলি ভারতের বন্দরে এসে নোঙর করতে পারে।
ক্যারোলিন লিভিট আরও জানান, এই ছাড় মূলত সমুদ্রপথে আটকে থাকা তেলভর্তি জাহাজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অন্য কোনও দেশে যাওয়ার পরিবর্তে ওই জাহাজগুলি ভারতের বন্দরে পৌঁছতে পারবে। তাঁর দাবি, এতে রাশিয়ার বড় কোনও আর্থিক লাভ হবে না, বরং আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে চাপ কিছুটা কমবে।
পশ্চিম এশিয়ায় ইরান, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সংঘাতের আবহে পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মাঝখানে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এই প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট রপ্তানি হওয়া তেলের প্রায় কুড়ি শতাংশ চলাচল করে। ফলে এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ভারতের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব গভীর। দেশের মোট অপরিশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় চল্লিশ শতাংশ হরমুজ প্রণালী হয়ে আসে। প্রণালীতে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় দুই প্রান্তে বহু তেলবাহী জাহাজ এবং ট্যাঙ্কার আটকে রয়েছে। এর ফলে ভারতের জ্বালানি বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার ঘোষিত ৩০ দিনের বিশেষ ছাড়কে ভারতের জন্য সাময়িক সুরক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন অর্থ দপ্তরের প্রধান স্কট বেসেন্ট এবং হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রও জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভারতের দায়িত্বশীল ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।