মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়েছে। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ফের চরমে উঠেছে সংঘাত। বুধবার ইরানের হরমুজ উপকূলবর্তী একাধিক সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ড্রোন ঘাঁটিতে একের পর এক হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চলা প্রথম অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পর দ্বিতীয় দফায় আরও হামলা চালানো হয়। হামলার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল করা এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে হুমকির অবসান ঘটানো।
ইরান সংবাদমাধ্যমের দাবি, বন্দর আব্বাস, চাবাহার, আহভাজ, সিরিক, কোনারাক, রাসক ও কেশম দ্বীপ-সহ একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্যানুযায়ী, মার্কিন হামলাযর জেরে অন্ততপক্ষে ৩৫ জন নিহত এবং ৩০০-রও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বামপুরের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় ৭ জন সেনা নিহত হয়েছেন।
হামলার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘আমরা আমেরিকার সঙ্গে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করছি।’ ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা বাহরিন, কুয়েত ও জর্ডনে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বিদেশি হস্তক্ষেপ তারা কোনওভাবেই মেনে নেবে না।
সংঘাতের জেরে আবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নৌপরিবহণ সংক্রান্ত তথ্য বলছে, মঙ্গলবার যেখানে ১৩টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছিল, বুধবার সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৯-এ। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ভারতও জাহাজ মালিক ও নিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে আপাতত হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ভারতীয় নাবিক মোতায়েন না করার পরামর্শ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মাসে ২ দেশের মধ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেখানে ৬০ দিনের সংঘর্ষবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার কথা বলা হয়। যদিও সেই চুক্তির ব্যাখ্যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। আমেরিকার অভিযোগ, ইরান হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে সমঝোতার শর্ত ভেঙেছে। অন্যদিকে, তেহরানের দাবি, মার্কিন আগ্রাসনের জবাব দিতেই তারা পাল্টা পদক্ষেপ করছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান আলোচনায় ফিরতে চাইলেও সামরিক অভিযান আপাতত চলবে। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সামরিক চাপের কাছে তারা মাথা নত করবে না। ফলে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে দুই দেশের সংঘাত আরও জটিল আকার ধারণ করছে।