যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটি স্থগিত

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

ওয়াশিংটন, ২২ মে— ইরান যুদ্ধ ঘিরে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধসংক্রান্ত ক্ষমতা সীমিত করার উদ্দেশ্যে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে আনা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব শেষ মুহূর্তে স্থগিত করে দিল শাসকদল রিপাবলিকান পার্টি। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটাভুটিতে হারার আশঙ্কা তৈরি হওয়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবটি এনেছিলেন নিউ ইয়র্কের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকস। তিনি বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির সদস্য। প্রস্তাবে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করা হয়েছিল এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রেসিডেন্টের একতরফা সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার উপর নিয়ন্ত্রণ আনার দাবি তোলা হয়। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত বন্ধ করার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছিল।

হাউসে প্রস্তাব উত্থাপনের সময় রিপাবলিকান সদস্যদের একটি বড় অংশ অনুপস্থিত ছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প অনুগামী সদস্যরা ভোটাভুটি নিয়ে আপত্তি জানান।


পরে সেই আপত্তি মেনে ভোট স্থগিত রাখা হয়। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেয় ডেমোক্র্যাট শিবির।
হাউসের তিন শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস, ক্যাথরিন ক্লার্ক এবং পিট অ্যাগুইলার যৌথ বিবৃতিতে রিপাবলিকানদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁদের অভিযোগ, রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত হাউস কার্যত ট্রাম্প প্রশাসনের অনুগত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তাঁরা দাবি করেন, দ্বিদলীয় সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাবটি ভয় পেয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, হাউসের স্পিকার মাইক জনসন জানিয়েছেন, আগামী জুন মাসে বিষয়টি নিয়ে ফের ভোটাভুটি হতে পারে।

১৯৭৩ সালের যুদ্ধ ক্ষমতা আইন অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া কোনও সামরিক অভিযান দীর্ঘদিন চালানো যায় না। প্রেসিডেন্ট নিজের ক্ষমতাবলে সীমিত সময় পর্যন্ত সামরিক পদক্ষেপ চালাতে পারেন ঠিকই, তবে পরে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। প্রয়োজনে সেনা প্রত্যাহারের জন্য অতিরিক্ত সময়ও চাওয়া যায়। কিন্তু নতুন করে যুদ্ধ বা বড় সামরিক অভিযান শুরু করতে হলে বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণ পেশ করতে হয়।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করেছিল মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। নিয়ম মেনে সামরিক পদক্ষেপের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই কংগ্রেসকে সে বিষয়ে জানানো হয়েছিল।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের একাংশ দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন আবারও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে শুধু ডেমোক্র্যাট নয়, রিপাবলিকান দলের একাংশও নতুন সামরিক অভিযানের বিরোধিতা শুরু করেছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এখনও পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেয়নি
ট্রাম্প প্রশাসন।