ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে শোকপ্রকাশ মোদী ও ট্রাম্পের, মৃতের সংখ্যা ছাড়াতে পারে ১ লক্ষেরও বেশি

জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে তছনছ ভেনেজুয়েলা। পরপর দু’বার কম্পনের পরেও থামেনি। জোড়া ভূমিকম্পের পরে অন্তত ২০ বার কেঁপে উঠেছে রাজধানী কারাসাস ও আশেপাশের এলাকা। আমেরিকার জিওলজিক্যাল সার্ভের প্রাথমিক অনুমান, ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের জেরে ১০ হাজার থেকে ১ লক্ষেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলাকে সবরকমভাবে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। তিনি এ বিষয়ে এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করেছেন। সেই পোস্টে মোদী ভারতের সবরকমের আশ্বাসের কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে আমি ভেনেজুয়েলার সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই। বিশেষ করে যে সকল পরিবার তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছে। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি। এই কঠিন সময়ে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে রয়েছি। ভারত সবরকমভাবে সাহায্যের জন্য প্রস্তুত।’

এদিকে ভেনেজুয়েলাকে সবরকমভাবে সাহায্য করতে ওয়াশিংটন প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘আমাদের সমস্ত সরকারি সংস্থাকে বলেছি ওদের সাহায্য করতে। প্রাথমিক রিপোর্ট যা পেয়েছি, সেটা একদমই ভালো নয়।’ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন অন্তবর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন।


ডেলসি রড্রিগেজ আরও জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে দেশের একাধিক রাজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৩২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। ৭০০-এরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়েসদাদো ক্যাবেলো জানিয়েছেন, নিয়ম মেনেই উদ্ধার ও ত্রাণ পরিচালিত হচ্ছে এবং যাঁদের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, বুধবার সন্ধ্যায় ভেনেজুয়েলা প্রথমে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প কেঁপে ওঠে। এরপরে মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পরে দ্বিতীয়বার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলা। সে সময়ে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৫। ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের একাধিক বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল ক্যারিবিয়ান সাগর উপকূলবর্তী মরন অঞ্চল। যা কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার দূরে। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ওই এলাকার দক্ষিণ-পশ্চিমে। প্রথম কম্পনের উৎপত্তি হয়েছিল ভূগর্ভের ২২ কিলোমিটার গভীরে এবং দ্বিতীয়টির ১০ কিলোমিটার গভীরে।