মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে ফের ইরানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একাধিক পোস্ট করে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন। একইসঙ্গে ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিকাঠামোর উপরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে।
ট্রাম্প দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা এবং আক্রমণাত্মক সামরিক শক্তির অধিকাংশই কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে তিনি আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আজ রাতে ইরানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নেবে। তাদের প্রতিরক্ষা এবং আক্রমণাত্মক সক্ষমতার বেশিরভাগই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।’ তাঁর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
শুধু সামরিক হামলার হুমকিই নয়, ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি খাতকেও নিশানা করেন। তিনি এমন ইঙ্গিত দেন যে, ভবিষ্যতে ওয়াশিংটন ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ভাবতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় প্রভাব ফেলতে পারে এবং গোটা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে।
বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে খার্গ দ্বীপের প্রসঙ্গও। ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত খার্গ আইল্যান্ড দেশটির অপরিশোধিত তেল রফতানির বড় অংশ পরিচালনা করে। এই পরিকাঠামোকে কেন্দ্র করে যে কোনও সামরিক বা কৌশলগত পদক্ষেপ বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষের আবহ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। দুই দেশের মধ্যে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে এপ্রিল মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত চাপে পড়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে নতুন করে সংঘাতের সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হলেও, তার পর থেকেই একাধিকবার সংঘর্ষ ও উত্তেজনার ঘটনা সামনে এসেছে। ফলে সেই যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। আগামী দিনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থান কোন দিকে যায়, তার উপরই নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ।