ইরানের তেলে মার্কিন ছাড়, ভারতে কমবে তেলের দাম?

পশ্চিম এশিয়ায় ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি সমঝোতার পরে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। এবার ইরানের তেল নিয়ে খুশির খবর দিল যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের তেল শিল্পকে ৬০ দিনের জন্য বিশেষ ছাড় দিল আমেরিকা। এর ফলে আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের উৎপাদন, বিক্রি, সরবরাহ ও আমদানি ক্ষেত্রে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। কিন্তু আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত ভারতের উপরে কতটা প্রভাব ফেলবে? এবার কি ভারতে অপরিশোধিত তেলের দাম কমবে?

জানা গিয়েছে, ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু পর্যবেক্ষকদের পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছে। সেই সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসতে রাজি হওয়ার পরেই আমেরিকা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এই ঘোষণার পরেই আন্তজার্তিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের উপরে এর প্রভাব পড়তে পারে। কারণ ভারত প্রয়োজনীয় তেলের ৮৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে। সেক্ষেত্রে আন্তজার্তিক বাজারে তেলের দাম কমলে ভারতের আমদানির খরচও কমবে। সেই সঙ্গে মূল্যবৃদ্ধির চাপও কমতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ ভারত এই পরিস্থিতি থেকে লাভবান হতে পারে। এক সময় ইরান ছিল ভারতের অন্যতম তেল সরবরাহকারী দেশ। কিন্তু ২০১৮ সালে মার্কিন নিষেধাক্ষার কারণে ভারতকে ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে হয়। এবার থেকে ধীরে ধীরে সেই পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন ঘটবে।


তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, ভারতের এখনই তেল কেনার সম্ভাবনা কম। কারণ আপাতত মাত্র ৬০ দিনের জন্য সেই ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে ইরানের তেল বিশ্ববাজারে ফিরলে যেমন সরবরাহ বাড়বে তেমনই তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ থাকারও সম্ভাবনা রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ় প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা কমলে ভারতের জন্য তা স্বস্তির। কারণ ভারতের আমদানি করা তেলের বড় অংশ আসে ওই পথ দিয়েই। ইরানের তেল রপ্তানিতে মার্কিন ছাড় ভারতের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। ভারত সরাসরি ইরানের তেল না কিনলেও বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে সেই সুবিধা মিলবে।