মার্কিন শুল্ক কমে হল ১০ শতাংশ, সুপ্রিম রায়ে আর কী কী বদল ঘটল?

ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর যে অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হয়েছিল, তা বাতিল ঘোষণা করল হোয়াইট হাউস। জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের (আইইইপিএ) আওতায় যে বাড়তি শুল্ক চাপানো হয়েছিল, তা আর কার্যকর থাকবে না। ফলে ওই হারে শুল্ক আদায়ও বন্ধ হবে। ভারতের উপর আরোপিত শুল্ক ১০ শতাংশে নেমে আসছে।

শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায়ে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্প যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা আইনসঙ্গত নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এ ধরনের সিদ্ধান্তে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল, যা নেওয়া হয়নি। একক সিদ্ধান্তে ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে বলেও মত সুপ্রিম কোর্টের। রায়ের পরই হোয়াইট হাউস বিবৃতি দিয়ে জানায়, আইইইপিএ অনুসারে আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে।

তবে ট্রাম্প এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্টের সমালোচনা করেছেন। একই দিনে তিনি আবার নতুন করে বাড়তি ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্দেশে সই করেন। ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ১২২ নম্বর ধারার উল্লেখ করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের শুল্ক ১৫০ দিনের বেশি কার্যকর রাখা যায় না।


ভারতের ক্ষেত্রে আগে বাণিজ্য সমঝোতার ভিত্তিতে শুল্কের হার ১৮ শতাংশে নামানো হয়েছিল। ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের সেই হারে শুল্ক দিতে হচ্ছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেই অতিরিক্ত হার বাতিল হওয়ায় ১৮ শতাংশ শুল্ক আর প্রযোজ্য থাকছে না। যদিও ট্রাম্প ঘোষিত নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক ভারত-সহ সব দেশের ক্ষেত্রেই সমানভাবে কার্যকর হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে তা কার্যকর হতে পারে এবং আপাতত ১৫০ দিন বলবৎ থাকবে।

এদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় ‘হতাশাজনক’, তবে শুল্ক আরোপের আরও বিকল্প পথ তাঁর হাতে রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ‘ন্যায্য’ বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ভারতের সঙ্গে হওয়া সমঝোতায় কোনও পরিবর্তন আসছে না।