ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রস্তাবনা পাশ মার্কিন সেনেটের

নিজের দেশেই মুখে কালি লাগল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ইরানে যুদ্ধ থামানোর জন্য ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে সুর চড়ালেন সেনেটররা। মঙ্গলবারেই মার্কিন সেনেট একটি প্রস্তাবনা পাশ করা হয়েছে, আর সেখানেই ইরানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামরিক অভিযান বন্ধের কথা বলা হয়েছে।

 

এই মুহূর্তে ওয়াশিংটন চেষ্টা করছে তেহরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করার। আর ঠিক তার আগেই এই প্রস্তাবনার জন্য রীতিমত চাপে ট্রাম্প। জানা গিয়েছে, মার্কিন সেনেটে এই প্রস্তাবনায় ভোট পড়েছে ৫০-৪৮। আর যেহেতু এই প্রস্তাবনার সপক্ষেই বেশি ভোট পড়েছে তাই প্রস্তাবনা অনুসারে মার্কিন কংগ্রেসের নির্দেশ ছাড়া ইরানে কোনো সামরিক অভিযান  করা যাবে না। সেই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নির্দেশ দেওয়া হবে ইরান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার।


গত মাসেই হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভে এই প্রস্তাবনা পাশ হয়ে গিয়েছিল। তবে এই  প্রস্তাবটি প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে। ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্টের অধীনে এই প্রস্তাব পাশ হওয়ায়, এতে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয় না। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে এই প্রস্তাবটি অসাংবিধানিক। আর সেই কারণেই আইনগতভাবে এইটি বাধ্যতামূলক নয়। প্রস্তাবটির সমর্থনে থাকা আইন বিশেষজ্ঞরা যুক্তি দিয়েছেন দীর্ঘমেয়াদী কোনও অভিযানের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন থাকা উচিত। তাঁরা প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ পরিচালনা ক্ষমতার সীমা এবং এর ফলে বৃহত্তর আঞ্চলিক ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলেও এটি প্রশাসনের বর্তমান সামরিক কৌশল বা পরিকল্পনায় বড় কোন পরিবর্তন আনবে না বলে মনে করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই মার্কিন সামরিক অভিযান চালানোর সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের রয়েছে। তবে প্রস্তাবটি সমর্থনন করেছে যারা, তাদের বক্তব্য, এমন কোন সিদ্ধান্ত যা আমেরিকাকে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে, সেই ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ভূমিকা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

এই প্রস্তাবটি যদিও প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে, তবুও এটি ইরান নীতি নিয়ে প্রশাসনের উপরে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক নজরদারিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন অনেকে। সেই সঙ্গে কংগ্রেস, ও প্রেসিডেন্টের মধ্যে যুদ্ধ পরিচালনার ভারসাম্য নিয়ে চলা বিতর্ককে স্পষ্ট করছে।  তবে আগামীতে এই পরিস্থিতি কোনদিকে যাবে সেদিকেই নজর রেখেছে গোটা বিশ্ব। কারণ এই যুদ্ধের উপরে গোটা বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নির্ভর করছে।