ইরানে ভেঙে পড়া যুদ্ধবিমানের সদস্যকে দুঃসাহসিক অভিযানে উদ্ধার করল আমেরিকা

ইরানের আকাশসীমায় ভেঙে পড়া একটি যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে সফলভাবে উদ্ধার করল মার্কিন সেনা। এই অভিযানকে সাম্প্রতিক সামরিক ইতিহাসের অন্যতম দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযান বলে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

রবিবার ভোরে তিনি জানান, ‘আমরা তাকে উদ্ধার করেছি!’— এই বার্তার মাধ্যমে নিখোঁজ বিমানকর্মীর নিরাপদ উদ্ধারের কথা প্রকাশ্যে আসে। জানা গেছে, ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে এই উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করা হয়।

মার্কিন দপ্তর সূত্রে খবর, ওই বিমানকর্মী একটি F-15E Strike Eagle যুদ্ধবিমানের সদস্য ছিলেন, যা শুক্রবার একটি অভিযানের সময় ভূপাতিত হয়। বিমানের দুই সদস্যই ইজেক্ট করেন। এর মধ্যে একজন পাইলটকে আগেই উদ্ধার করা হয়েছিল, আর দ্বিতীয়জনকে খুঁজে পেতে বড়সড় অভিযান চালানো হয়।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওই বিমানকর্মী ‘শত্রু এলাকায় আটকে পড়েছিলেন এবং বিপদের মুখে ছিলেন’, তবে এখন তিনি ‘নিরাপদ’। তিনি আরও জানান, বিমানকর্মী কিছুটা আহত হলেও দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।

খবর অনুযায়ী, এই অভিযানে একাধিক যুদ্ধবিমান ও বিশেষ বাহিনী অংশ নেয়। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে, ইরানের সেনা ও মিলিশিয়াদের উপস্থিতির মধ্যেই উদ্ধারকাজ চালানো হয়। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এখনও পুরো অভিযানের বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।

এদিকে জানা গেছে, অভিযানের সময় দুইটি বিশেষ সামরিক বিমান মাটিতে ধ্বংস করতে হয়, কারণ সেগুলি আর ব্যবহারযোগ্য ছিল না।

এই ঘটনাকে ঘিরে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইতিমধ্যেই চাপানউতোর চলছিল, তার মধ্যেই এই ঘটনা নতুন করে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ‘শত্রু এলাকার গভীরে ঢুকে পরপর দুইজন বিমানকর্মীকে উদ্ধার করা নজিরবিহীন সাফল্য’, এবং এতে আমেরিকার সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ মিলেছে।