হিরোশিমার ২০ গুণ শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা আমেরিকার

পশ্চিম এশিয়ায় ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় শক্তিশালী পরমাণু বহনক্ষম মিনিটম্যান–৩ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল আমেরিকা। এই ক্ষেপণাস্ত্রকে অনেক সময় ‘ডুমসডে’ ক্ষেপণাস্ত্রও বলা হয়। ফলে এই পরীক্ষাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে— এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কি ইরান-সহ বিশ্বের কাছে কোনও বার্তা দিতে চাইলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প?

মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যান্ডেনবার্গ স্পেস সেন্টার থেকে এই ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ করা হয়। আমেরিকার স্পেস ফোর্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বায়ুসেনার গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ড এই পরীক্ষার দায়িত্বে ছিল। বহুদিন ধরেই এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরিকল্পনা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা পিছিয়ে যাচ্ছিল। অবশেষে মঙ্গলবার সেই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছে স্পেস ফোর্স।

তবে আমেরিকার তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার সঙ্গে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কোনও সম্পর্ক নেই। এটি দীর্ঘদিনের নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবেই করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে সরকারি বিবৃতিতে।


তবু আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পশ্চিম এশিয়ায় যখন সামরিক সংঘাত চরমে এবং ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েল সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, ঠিক সেই সময় এই ধরনের পরমাণু বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা কি কেবল নিয়মিত কর্মসূচি, নাকি এর মধ্যে শক্তি প্রদর্শনের বার্তাও রয়েছে— তা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মতবিরোধ চলছে। আমেরিকা বারবার অভিযোগ করেছে, গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে তেহরান। সেই কারণেই ইরানের উপর বিভিন্ন সময় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। দু’দেশের মধ্যে একাধিক বৈঠক হলেও এখনও পর্যন্ত স্থায়ী কোনও সমাধান সামনে আসেনি।

অন্যদিকে, ইরানের প্রশাসন বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তেহরানের দাবি, তারা পরমাণু প্রযুক্তি কেবল শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করতে চায়, সামরিক প্রয়োজনে নয়। পাশাপাশি আমেরিকার চাপের কাছে নতিস্বীকার করতেও তারা রাজি নয় বলে বারবার জানিয়ে দিয়েছে। এই টানাপোড়েনই ধীরে ধীরে পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

মিনিটম্যান–৩ আমেরিকার অন্যতম শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে পরিচিত। এটি একটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা পরমাণু বোমা বহন করতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র যে পরমাণু ওয়ারহেড বহন করতে পারে, তার শক্তি হিরোশিমায় ফেলা পরমাণু বোমার তুলনায় প্রায় কুড়ি গুণ বেশি।

এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত। ঘণ্টায় প্রায় ২৪ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে এটি লক্ষ্যবস্তুর দিকে ছুটে যেতে পারে। ফলে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে দ্রুত আঘাত হানার ক্ষেত্রে এটি আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অস্ত্র।

বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এই পরীক্ষাকে ঘিরে উদ্বেগও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় চলা সামরিক উত্তেজনার আবহে এই ধরনের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।