ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি— বাংলাদেশের উপর থেকে আমদানি শুল্ক কমাতে পারে আমেরিকা। সম্প্রতি কূটনৈতিক স্তরে এমনই ইঙ্গিত মিলল। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর দাবি, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকেই অথবা আগামী সপ্তাহের শুরুতে আমেরিকার পক্ষ থেকে শুল্ক কমানোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে। এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রপ্তানি-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বড় স্বস্তির বার্তা বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
মঙ্গলবার ঢাকার ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং দেশের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই তথ্য জানান লুৎফে সিদ্দিকী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘ওয়াশিংটন বাংলাদেশের উপর আরোপিত শুল্ক কমানোর বিষয়ে আন্তরিক। খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে সরকারি ঘোষণা হতে পারে। তবে বর্তমানে যে ২০ শতাংশ শুল্ক রয়েছে, তা ঠিক কতটা কমবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।’
সিদ্দিকীর দাবি অনুযায়ী, দাভোসে সম্মেলনের ফাঁকে আমেরিকার রাজস্বসচিব স্কট বেসেন্টের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক হয়েছে এই বিষয়টি নিয়ে। সেই আলোচনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি, বাণিজ্য কাঠামো এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, ‘আমেরিকার শুল্কনীতির বহু বিষয় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি আগের তুলনায় অনেকটাই কমে এসেছে। এই সব বিষয়ই আমেরিকার সিদ্ধান্তে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’
কূটনৈতিক মহলের মতে, যদি সত্যিই আমেরিকা শুল্ক ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেয়, তা হলে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প, চামড়াশিল্প ও রপ্তানিমুখী ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্রে বড়সড় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দেশে উৎপাদিত পণ্যের রপ্তানি খরচ কমবে, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা বাড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথ আরও মসৃণ হবে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এটি শুধু বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় ভূরাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেও এই শুল্কছাড় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতেই আমেরিকা এই পথে এগোচ্ছে বলেও মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, শুল্কছাড়ের সম্ভাব্য ঘোষণা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে চলেছে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহল। এখন নজর ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে।