মুখোমুখি নয়, দোহা বৈঠকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আমেরিকা-ইরান আলোচনা 

Photo: File photo

কাতারের রাজধানী দোহায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দু’দিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও দুই দেশের প্রতিনিধিরা এক টেবিলে বসেননি। কাতার ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বার্তা আদানপ্রদান করেই বৈঠক হয়েছে। তবে এই পরোক্ষ আলোচনাকে ইতিবাচক বলে দাবি করেছে মধ্যস্থতাকারী কাতার। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

ইরানের সরকারি সংবাদসংস্থা আইআরএনএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে একটি কমিউনিকেশন চ্যানেল বা স্থায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ বা জরুরি বিষয়গুলি এই ব্যবস্থার মাধ্যমেই জানানো হবে। তাঁর দাবি, শুক্রবারের মধ্যেই এই যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হতে পারে।

বৈঠকে ইরানের বাজেয়াপ্ত প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদ ফেরানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ইরান সূত্রের দাবি, এই বিষয়ে আমেরিকা নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে। যদিও ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে তা স্বীকার করেনি। এক মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, ইরান সমঝোতার শর্তগুলি যথাযথভাবে মেনে চললে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।


সূত্রের খবর, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যাতে নির্বিঘ্নে জাহাজ চলাচল করতে পারে, সেই বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এর পাশাপাশি লেবাননে ইজরায়েলের হামলার বিষয়টি নিয়েও আমেরিকার কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তেহরান। জানা গিয়েছে, দোহার এই বৈঠকে মূলত আগে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী সমঝোতা শর্তগুলির ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে এই দফার আলোচনায় কোনও বিস্তারিত আলোচনা হয়নি বলে কূটনৈতিক সূত্রে দাবি। এই বিষয়টি পরবর্তী বৈঠকের জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।

কাতারের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, দুই দিনের আলোচনায় কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। যদিও স্থায়ী শান্তিচুক্তির পথে এখনও বড় কোনও অগ্রগতি হয়নি। আপাতত দুই দেশ আগের সমঝোতার বাস্তবায়ন নিয়েই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

ইরানের তরফে আরও জানানো হয়েছে, আগামী ৯ জুলাই প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পর ফের আলোচনায় বসতে পারে দুই দেশ। সমঝোতা অনুযায়ী, ৬০ দিনের আলোচনা প্রক্রিয়া শেষ হলে একটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির দিকে এগোনোর লক্ষ্য রয়েছে। অন্যদিকে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে আলোচনা ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে।