বালুচিস্তানে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার পর অবশেষে পাকিস্তানের পাশে থাকার ঘোষণা করল আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তারা পাকিস্তান সরকারের পাশে রয়েছে এবং জঙ্গি দমনে পাক সেনার অভিযানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে। একই সঙ্গে হামলার জন্য দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
গত ৩১ জানুয়ারি বালুচিস্তান প্রদেশের একাধিক এলাকায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ও আত্মঘাতী হামলায় রক্তাক্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দাবি, ওই হামলায় মহিলা ও শিশুসহ অন্তত ৩৬ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি প্রাণ হারিয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর ২২ জন সদস্য। হামলার পরেই বালুচিস্তান জুড়ে বড়সড় অভিযান শুরু করে পাক সেনা। সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেই অভিযানে ২১৬ জন জঙ্গিকে হত্যা করা হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আমেরিকার বিদেশ দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, বালুচিস্তানে সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনায় তারা পাকিস্তানের পাশে রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের অবস্থান স্পষ্ট এবং অনড়। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের প্রচেষ্টাকে আমরা সমর্থন করি।’ একই সঙ্গে বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি বা বিএলএ-কে বিদেশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে এই নৃশংস হামলার সঙ্গে যুক্তদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই হামলার দায় স্বীকার করেছে বিএলএ। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে আমেরিকা এই সংগঠনকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা করেছিল। অন্যদিকে, পাকিস্তান দাবি করেছে, বালুচিস্তানে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের নেপথ্যে ভারতের হাত রয়েছে এবং হামলার পরিকল্পনা বিদেশের মাটি থেকে করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের স্বপক্ষে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ পেশ করতে পারেনি ইসলামাবাদ। ভারত সরকারও পাকিস্তানের এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে।
এদিকে বালুচিস্তানের জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘ। সব মিলিয়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক স্তরে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।