সংঘর্ষবিরতি অগ্রাহ্য করে ফের যুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছে আমেরিকা ও ইরান। সাম্প্রতিক সংঘর্ষে তিনজন মার্কিন সেনার মৃত্যুর পর ইরানের বিরুদ্ধে হামলা আরও জোরদার করেছে আমেরিকা। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সোমবার টানা নবম দিনে ইরানের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। সেই সঙ্গে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরানও। ফলে গোটা পশ্চিম এশিয়া জুড়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করা বাণিজ্যিক জাহাজ ও জাহাজের নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। তাদের দাবি, ইরান যাতে আর বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাতে না পারে সেই উদ্দেশ্যেই ইরানের সামরিক ক্ষমতা দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। তবে ঠিক কোন কোন সামরিক ঘাঁটি বা পরিকাঠামোর উপর হামলা হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি ওয়াশিংটন।
ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, সোমবার ভোরে দেশের একাধিক শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তাবরিজ, চাবাহার, কোনারাক, বন্দর মাহশাহর, বন্দর ইমাম খোমেনি, বুশেহর প্রদেশের দাশতি, হরমোজগানের জাস্ক ও সিরিক-সহ একাধিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গিয়েছে। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। আমেরিকার হামলার সঙ্গে সঙ্গে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সক্রিয় করা হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলে একটি ড্রোনও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি তেহরানের।
এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে মার্কিন সেনাদের মৃত্যু। কয়েকদিন আগে জর্ডনে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে ইরানের হামলায় দুজন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। তারপর ইরাকের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন থেকে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে বিস্ফোরণে আরও একজন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়। এই নিয়ে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক সংঘর্ষে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে তিনজন। ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত মোট ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৪২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর।
এরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলা আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সেন্টকম। তাদের বক্তব্য, ইরানের হামলার জবাব দিতেই এই সামরিক অভিযান আরও তীব্র করা হয়েছে। পাল্টা হামলা চালায় ইরানও। ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি সিরিয়ায় মার্কিন সেনার বিশেষ অভিযানের সদর দপ্তর এবং কুয়েতের ২টি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে। এর পাশাপাশি সৌদি আরব, কাতার, বাহরিন, জর্ডন, কুয়েত, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকেও এরপর নিশানা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এই দেশগুলির ঘাঁটি ব্যবহার করেই আমেরিকা ইরানে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ ইরানের।
আরও পড়ুন: ইরান ভ্রমণ স্থগিতের পরামর্শ ভারতীয় দূতাবাসের, ভারতীয়দের দ্রুত দেশে ফেরার নির্দেশ
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণের পথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে এই সংঘাত কতদূর গড়াবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। গত মাসের ৬০ দিনের সংঘর্ষবিরতির চুক্তিও ভেঙে পড়েছে। ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি শেষের ঘোষণা এবং খামেনির কড়া প্রতিক্রিয়ায় ফের যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে। দুই দেশের অনড় অবস্থানে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।