ডলারের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বিশ্বের পেমেন্ট মানচিত্রে নিজেদের অবস্থান ক্রমশ আরও মজবুত করছে ভারত। ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট বিপ্লবের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই) এবার আনুষ্ঠানিকভাবে পা রাখল ইউরোপের দেশ গ্রিসে। মঙ্গলবার এথেন্সে ইউরোব্যাঙ্কের সদর দপ্তরে ইউপিআই পরিষেবার সূচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় ভারতের উত্থানের আরও এক নতুন অধ্যায় শুরু হল।
কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের উপস্থিতিতে ইউরোব্যাঙ্ক এবং এনপিসিআই ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্টস লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে এই পরিষেবার উদ্বোধন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউরোব্যাঙ্কের সিইও ফোকিয়ন কারাভিয়াস এবং ফেয়ারফ্যাক্স ডিজিটাল সার্ভিসেসের সিইও সঞ্জয় তুগনাইত।
উদ্বোধনের পর পীযূষ গোয়েল বলেন, ‘ইউপিআই শুধু একটি পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও ডিজিটাল নেতৃত্বের প্রতীক।’ তাঁর দাবি, গ্রিসে ইউপিআই চালু হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আরও দ্রুত, নিরাপদ এবং অনেক কম খরচে অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। পাশাপাশি প্রবাসী ভারতীয়, পর্যটক এবং ব্যবসায়ীদের জন্য সীমান্ত-পার লেনদেনে এক নতুন দিগন্ত খুলে গেল।
আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে, ইউরোপের আরও এক দেশে ইউপিএই চালুর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। গত কয়েক বছরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সিঙ্গাপুর, ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ফ্রান্স, মরিশাস এবং কাতারে ইউপিআই চালু হয়েছে। এবার ইউরোপের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশে প্রবেশ করে ভারত স্পষ্ট বার্তা দিল যে, ডিজিটাল পেমেন্টের বিশ্বমঞ্চে তারা আর শুধু অংশগ্রহণকারী নয়, বরং ভারত এখন নীতি নির্ধারণকারী শক্তি হয়ে উঠছে।
চলতি বছরের শুরুতেই ‘ইন্ডিয়া স্ট্যাক’-ভিত্তিক সহযোগিতার জন্য ২৩টি দেশের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি সই করেছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। কিউবা, কেনিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং লাওসের সঙ্গে ডিজিলকার পরিষেবা নিয়েও পৃথক চুক্তি হয়েছে। অর্থাৎ, ইউপিআইয়ের সাফল্যকে সামনে রেখে ভারত ধাপে ধাপে নিজের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারকে বিশ্বের সামনে রপ্তানি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু একটি প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়। বরং এটি ভারতের অর্থনৈতিক কূটনীতিরও বড় জয়। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে পশ্চিমী প্ল্যাটফর্মগুলির যে একচ্ছত্র প্রভাব ছিল, ইউপিআইয়ের দ্রুত বিস্তার তাকে নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের ইউপিআই কতটা নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে পারে সেদিকেই রয়েছে নজর। তবে যেভাবে একাধিক দেশে ভারতের ইউপি্আই চালু হচ্ছে তাতে মনে করা হচ্ছে তা সুবিধা দেবে অনাবাসী ভারতীয়দের।