শান্তিচুক্তিতে সই দুই রাষ্ট্রনেতার, কোন কোন শর্তে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার পথে হাঁটল আমেরিকা?

দীর্ঘ সংঘাত পেরিয়ে অবশেষে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের পরে ভার্সাই প্রাসাদে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ডিনারের এক ফাঁকে সমঝোতাপত্রে সই করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সময়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানও সমঝোতাপত্রে সই করেন। তবে দুই দেশের মধ্যে কোন কোন শর্তে সমঝোতা হয়েছে, তা ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। আমেরিকা ইরানের সঙ্গে ১৪টি বিষয়ে শর্ত রেখে সমঝোতা করেছে। কী কী শর্ত রয়েছে সেই সমঝোতা চুক্তিতে?

আমেরিকা এই চুক্তিকে ‘ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং বিটুইন দ্য ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা অ্যান্ড দ্য ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান’ বলে উল্লেখ করেছে। জানা গিয়েছে, সেই সমঝোতা চুক্তিতে শর্ত হিসেবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ইরানের উপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি সেই চুক্তির শর্তের মধ্যে রয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, হরমুজ় প্রণালী খোলার পাশাপাশি ইরান নিজেদের উৎপাদিত পারমাণবিক বর্জ্য ধ্বংসও করবে বলে সমঝোতা চুক্তির শর্তের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ইরানের জন্য আর্থিক ও কৌশলগত সুবিধাও শর্ত সাপেক্ষে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, ইরান যদি নিজেদের কথা রাখে তাহলে আমেরিকা ধীরে ধীরে ইরানের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


ইরান পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর পর্যন্ত বিনামূল্যে বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিরাপদে যাতায়াতের ব্যবস্থা করবে। হরমুজ় প্রণালীতে ভবিষ্যতে নৌ-পরিষেবার বিষয়ে ওমান ও অন্যান্য উপকূলীয় রাষ্ট্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আলোচনা করবে ইরান। চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছনোর জন্য দুপক্ষই ৬০ দিনের একটি আলোচনার সময়সীমা পাবে বলে জানা গিয়েছে।