ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তি সমঝোতা হলেও পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা কাটেনি। নতুন করে উদ্বেগের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে লেবানন। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, লেবানন থেকে ইজরায়েল সেনা না সরালে ভবিষ্যতে চুক্তির অগ্রগতি বাধার মুখে পড়তে পারে।
ইরানের অভিযোগ, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর অজুহাতে ইজরায়েল এখনও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু দক্ষিণ লেবাননেই নয়, রাজধানী বেইরুটেও সামরিক অভিযান চলছে। অন্যদিকে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে যতদিন প্রয়োজন, তাঁদের বাহিনী সেখানে থাকবে।
ইজরায়েলের এই অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকেই তিনি মন্তব্য করেছেন, লেবাননে চলতে থাকা সামরিক অভিযান ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনাকে প্রায় ভেস্তে দিয়েছিল। তাঁর মতে, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘শুধু বোমাবর্ষণ ও সামরিক অভিযান চালিয়ে হিজবুল্লাহ সমস্যার সমাধান হবে না। ইজরায়েলের উচিত লেবাননে সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আঞ্চলিক শক্তিগুলিকে, বিশেষ করে সিরিয়াকে, বিষয়টি সামলানোর সুযোগ দেওয়া।’ ট্রাম্প বোঝাতে চেয়েছেন , বর্তমান কৌশলে হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করা প্রায় অসম্ভব। সবথেকে বড় কথা এতে সাধারণ মানুষের অনেক ক্ষতি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান-আমেরিকা সম্পর্কের উন্নতি বিশ্ববাজারের জন্য ইতিবাচক বার্তা হলেও লেবানন ইস্যুতে নতুন ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। যদি আবার সংঘাতের আবহ তীব্র হয়, তাহলে জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আবার অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
বিনিয়োগকারীরাও এখন পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছেন। কারণ পশ্চিম এশিয়ার শান্তি শুধু রাজনৈতিক বিষয় নয়, তা আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, তেলের বাজার এবং বিশ্ব বাণিজ্যের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। তাই ইরান-আমেরিকা চুক্তি হলেও তার দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করছে লেবাননের পরিস্থিতির উপর।