জার্মানির একের পর এক আঞ্চলিক নির্বাচনে কোণঠাসা হচ্ছে চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জের রক্ষণশীল দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন। কোথাও সাফল্য পাচ্ছে কট্টর ডানপন্থী অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি, আবার কোথাও ক্ষমতার দখল নিচ্ছে অতিবামপন্থী দল। ফলে আঞ্চলিক ভোটের ফলাফলে স্পষ্ট হচ্ছে জার্মানির রাজনীতিতে দুই প্রান্তের শক্তি বৃদ্ধির ছবি।
সাম্প্রতিক ফলাফলে রাজধানী বার্লিনে বড়সড় সাফল্য পেয়েছে অতিবামপন্থী দল দি লিঙ্কে। ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম বার্লিনে বামপন্থীরা ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। আবাসনের লাগামছাড়া খরচ এবং সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া বাড়িভাড়াকেই প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয় করেছিল তারা। সরকারি আবাসনের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রচারেই ভোটারদের সমর্থন পেয়েছে বাম শিবির।
তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গড়তে অন্যান্য বামপন্থী দলের সঙ্গে জোট করতে হবে দি লিঙ্কেকে। জোট গড়া সম্ভব হলে রাজধানীর মেয়র পদেও বসতে পারেন বাম শিবিরের প্রার্থী।
অন্য দিকে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ মেকলেনবার্গ-ওয়েস্টার্ন পোমেরানিয়ায় জয় পেয়েছে অভিবাসনবিরোধী কট্টর ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডি। এর আগে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ স্যাক্সনি-আনহাল্টেও বড় জয় পেয়েছিল দলটি। সেখানে এএফডি ৪৩.৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। মার্জের রক্ষণশীল দল পেয়েছিল মাত্র ১৭.২ শতাংশ ভোট।
দু’সপ্তাহের ব্যবধানে জার্মানির তিনটি প্রদেশের ভোটের ফল প্রকাশ্যে এসেছে। আর তিন ক্ষেত্রেই উঠে এসেছে দেশের মূলধারার রাজনীতির জন্য অস্বস্তিকর বার্তা। কোথাও কট্টর ডানপন্থীদের উত্থান, কোথাও আবার অতিবামদের সাফল্য—দুই প্রান্তের রাজনৈতিক শক্তিই যে জনসমর্থন বাড়াচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়েছে আঞ্চলিক ভোটে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, অভিবাসন এবং শরণার্থী সমস্যা এএফডির ভোটব্যাঙ্ক বাড়ানোর অন্যতম কারণ। নির্বাচনী প্রচারে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং রাষ্ট্রীয় পরিচয়কে সামনে রেখে কড়া অবস্থান নিয়েছিল দলটি। স্থানীয় ভোটারদের একাংশ সেই অবস্থানকে সমর্থন করেছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
জাতীয় রাজনীতিতেও এএফডির জনপ্রিয়তা বাড়ছে বলে সাম্প্রতিক প্রবণতায় ইঙ্গিত মিলেছে। একাধিক কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের কট্টর অবস্থানকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরছে দলটি। ফলে আঞ্চলিক ভোটের এই ফলাফল শুধু স্থানীয় ক্ষমতার সমীকরণ নয়, আগামী দিনে জার্মানির জাতীয় রাজনীতিতেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।
অন্য দিকে, বার্লিনে বামেদের সাফল্য দেখিয়ে দিল, আবাসন, বাড়িভাড়া এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচের মতো সরাসরি জনজীবনের সমস্যাও ভোটের ফল ঘুরিয়ে দিতে পারে। সব মিলিয়ে জার্মানির আঞ্চলিক নির্বাচনের ফলাফলে মাঝামাঝি রাজনৈতিক শক্তির বদলে দুই প্রান্তের দলগুলির উত্থানই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।